স্বাধীন ফিলিস্তিন কায়েমে ইসরাইল ও আমেরিকা বড় বাধা: ওয়াশিংটন পোস্ট

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে আল-কুদস শহরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে দখলদার ইসরাইলের সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে লিখেছে, ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার দাবি বাস্তবায়নে শুধু ইসরাইলই বাধা সৃষ্টি করছে না, বরং একই সাথে এ পরিস্থিতির আমেরিকাও সমানভাবে দায়ী। বর্তমান জো বাইডেন প্রশাসনের অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুপক্ষকেই সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তারা ইসরাইলি আগ্রাসনের কোনো নিন্দা না জানিয়ে, বরং ইসরাইলে হামাসের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং দাবি করেছে নিজ স্বার্থ রক্ষার অধিকার ইসরাইলের রয়েছে।

আমেরিকার আগের সরকারগুলোর মতো বর্তমান বাইডেন প্রশাসনও সরাসরি ইসরাইলের পক্ষে কথা বলছে এবং ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষার অজুহাত দেখিয়ে আল-কুদস, পূর্ব বায়তুল মোকাদ্দাস ও গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলার পক্ষে সাফাই গাইছে। আমেরিকার সব সরকারই ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বে সরাসরি ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে আসছে এবং অবৈধ ও দখলদার এ সরকারকে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সব রকম সাহায্য করছে। মার্কিন সমর্থন নিয়েই ইসরাইল অবৈধভাবে ইহুদি উপশহর নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে মার্কিন সরকার সদাই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইসরাইলের হয়ে কাজ করছে যাতে তেলআবিবের বিরুদ্ধে কেউ কোনো পদক্ষেপ নিতে না পারে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তেলআবিবের প্রতি ওয়াশিংটনের অন্ধ সমর্থনের কারণেই গোটা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে বর্তমান অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক রাজনৈতিক বিশ্লেষক শাবলি তালহামি বলেছেন, আমেরিকা এখানে কোনো ধরনের পর্যবেক্ষকের ভূমিকা পালন করছে না, বরং তারা ইসরাইলের সকল অপকর্মের শরীক এবং শান্তি প্রচেষ্টার সকল উদ্যোগকে তারা থামিয়ে দিয়েছে।

৭০ বছর ধরে মার্কিন সরকার ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে এলেও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক্ষেত্রে নজিরবিহীন কাজ করেছেন। তিনি তার চার বছরের শাসনামলে ইসরাইলকে নজিরবিহীন সাহায্য সমর্থন দেয়ার পাশাপাশি গোলান মালভূমিকে ইসরাইলের বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন, ফিলিস্তিনিদের চিরতরে নির্মূল করতে ষড়যন্ত্রমূলক ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন দিয়েছেন, জর্দান নদীর পশ্চিম তীরের ৩০% এলাকা ইসরাইলে অন্তর্ভুক্তির প্রতি সমর্থন দিয়েছেন এবং আরব দেশগুলোর সাখে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন। সেসাথে উনি ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষকে সাহায্য দেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন এবং ইসরাইলবিরোধী পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিবাদে তিনি জাতিসংঘের ইউনেস্কো থেকে বেরিয়ে গেছেন। যদিও তার এ পদক্ষেপ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলো। এছাড়া, উনি বায়তুল মোকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবেও স্বীকৃতি দেন এবং ২০১৮ সালের ১৪ই মে তেলআবিব থেকে বায়তুল মোকাদ্দাসে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর করেন।

যাইহোক, মার্কিন সবুজ সংকেত পেয়ে দখলদার ইসরাইল কুদস শহরে ফিলিস্তিনিদের ওপর এমনভাবে জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে যাতে সেখানে একচ্ছত্রভাবে কেবল ইহুদিদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা যায়। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলায় ওয়াশিংটন ও তেলআবিব হতবিহব্বল হয়ে পড়েছে। সূত্র: পার্সটুডে।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে