হঠাৎ ইসরাইলের সাথে তুরস্কের নতুন সম্পর্কের ইঙ্গিত!

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্ক এরদোয়ানের বাসভবনের ছবি তোলায় গোয়েন্দাগিরির অভিযোগে ইসরাইলি দম্পতি মরদি-নাতালিয়ে ওকনিনকে বেশ ক’দিন আটকে রেখে ছেড়ে দিলে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনেট।

তুরস্ক কেন তাদের ছেড়ে দিলো? এরদোয়ান এ ঘটনা থেকে কী সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করবেন – এসব নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম হারেৎজ।

জনাথন লিসের লেখা ঐ নিবন্ধে বলা হয়েছে, ইসরাইলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে তুরস্ক থেকে প্রাইভেট জেট বিমান মরদি-ওকনিন দম্পতিকে নিয়ে আসার আগে যেসব কূটনীতিক তাদের মুক্তির পক্ষে কাজ করেছেন, তারা জোর দিয়ে বলেছেন – এ দম্পতিকে ছাড়িয়ে আনতে ইসরাইলের কিছু দিতে হয়নি।

একজন কূটনীতিক বলেছেন: এরদোয়ানের সাথে বিনিময় নিয়ে কোনো কথা হয়নি।

এখন ইসরাইল দেখতে অপেক্ষা করছে যে, এরদোয়ান ঐ দম্পতিকে ছেড়ে দেয়ার বিনিময়ে ইসরাইলের কাছে কী দাবি করেন?

এ দম্পতিকে ছেড়ে দেয়ায় তুরস্ক ও ইসরাইলের মাঝের জটিল সম্পর্কে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। এমনকি, হয়তো দেখা যাবে – দেশ দুটির মাঝে সম্পর্ক শক্তিশালী হচ্ছে!

তুরস্ক কেন ঐ দম্পতিকে ছেড়ে দিলো – এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা স্পষ্ট করে কিছু বলতে না পারলেও তাদের আটকের পর পরই ইসরাইল বলেছে – তারা গুপ্তচর নয়। একই সাথে তাদের বিরুদ্ধে যেসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, তাতেও প্রমাণিত হয়নি যে, তারা গোয়েন্দা।

তবে ইসরাইলের ধারণা – ঐ নির্দোষ পর্যটক দম্পতিকে আটকের ঘটনা সংবাদমাধ্যমে যেভাবে প্রকাশিত হয়েছে, তা তুরস্কের পর্যটন খাতের জন্যে ক্ষতির কারণ হতে পারে; হতে পারে দেশটির আর্থিক ক্ষতিও।

এদিকে, বেশ কিছু দিন ধরে এরদোয়ান ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন – তার দেশ ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী। জুলাইয়ে ইসাক হারজগ ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট হওয়ায় আকস্মিকভাবে তাকে টেলিফোন করে শুভেচ্ছা জানান এরদোয়ান! তখন তিনি হারজগকে অনুরোধ করেন – তুরস্ক ও ইসরাইলের মাঝে জ্বালানি, পর্যটন ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে। এ ফোনালাপের পর, ইসরাইলের প্রেসিডেন্টের বাসভবন থেকে দেয়া বিবৃতিটি ছিলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও ইঙ্গিতবহ! তাতে বলা হয়, শত মতপার্থক্য ভুলে দু নেতা সম্পর্ক ও সংলাপ বজায় রাখাকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

গতকালও (বৃহস্পতিবার) এরদোয়ান ও হারজগের মাঝে ফোনালাপ হয়। তাতে এরদোয়ান বলেছেন: পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে বিভিন্ন ইস্যুতে মতের ভিন্নতা দূর করা সম্ভব। তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যকার সংলাপ ও আলোচনা অব্যাহত থাকলে, তাতে দুদেশের পারস্পরিক স্বার্থ বজায় থাকবে।

এরপর ইসরাইলের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দু নেতার মধ্যকার টেলি সংলাপ আলোচনা ইতিবাচক ধারা তৈরি করলো। এ আলোচনা অব্যাহত থাকতে হবে।

সম্ভবত এরদোয়ান ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক শক্তিশালী করে আমেরিকা ও পশ্চিমা দেশগুলোর কাছাকাছি যেতে চাচ্ছেন। এটা আঞ্চলিক পর্যায়ে তুর্কি প্রেসিডেন্টের প্রভাব বাড়ার সুযোগ হিসেবেও ব্যবহার করা হতে পারে। এ ঘটনায় নিঃসন্দেহে ফিলিস্তিনিদের ওপর এরদোয়ানের প্রভাব আরো বাড়াবে।

ইসরাইল এরদোয়ানের পদক্ষেপকে অত্যন্ত সন্দেহের চোখে পর্যবেক্ষণ করেছে। কেননা, বর্তমানে এরদোয়ানের আমলে তুরস্ক ও ইসরাইলের মাঝে বাজে সম্পর্ক বিরাজ করছে। এ দু দেশের মাঝে উত্তেজনার অন্যতম কারণ হলো – ২০১০ সালে গাজায় পাঠানো তুরস্কের ত্রাণবাহী জাহাজে ইসরাইলের হামলা। এছাড়া, তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে ইসরাইলের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড্যানি আইলনের তিরস্কারের কারণেও দু দেশের সম্পর্কে ফাটল ধরে।

ওদিকে, তুরস্কের সাথে সম্পর্ক বাড়ালে বিপদ হতে পারে ইসরাইলের। এটা নিয়ে কূটনীতিকরা ইতোমধ্যে নিজেদের শঙ্কার কথা জানিয়েছে। কেননা, এতে ঘনিষ্ঠ বন্ধু গ্রীস ও সাইপ্রাসের সাথে ইসরাইলের সম্পর্কের ক্ষতি হতে পারে। একই সাথে আব্রাহাম চুক্তি মোতাবেক, ইসরাইলের সক্ষমতা অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে এ সম্পর্ক।

এখন ইসরাইল বিশ্বাস করছে, ঐ দম্পতির মুক্তি দেশ দুটির মাঝে সম্পর্ক বাড়াতে পারে। এ পদক্ষেপের জন্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনেট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ ও প্রেসিডেন্ট হারজগ ঐ দম্পতিকে মুক্তি দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে এরদোয়ানের সম্পৃক্ততার জন্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়া, হারজগ ও বেনেট তুর্কি প্রেসিডেন্টের সাথে ফোনালাপ করেছেন। তাতে এরদোয়ান ইসরাইলের সাথে তুরস্কের সম্পর্কের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্যে দেশ দুটির মাঝে সম্পর্ক অত্যন্ত জরুরি। সূত্র: হারেৎজ ও আল-জাজিরা।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে