হামাসকে নিষিদ্ধ করছে বৃটেন

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
হামাসকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় যুক্তরাজ্যের প্রতি নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের এ রাজনৈতিক দল। আইন মোতাবেক, হামাসের সদস্য বা সমর্থকদের ১৪ বছরের পর্যন্ত জেল হতে পারে! বৃটেনে কেউ হামাসকে সমর্থন করলে বা তাদের পতাকা উড়ালে কিংবা কোনো সমাবেশ করলে, তা অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং তাদেরকে সন্ত্রাস দমন আইনে বিচার করা হবে। এখন পর্যন্ত হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডকে নিষিদ্ধ করেছে বৃটেন।

এ পদক্ষেপের ফলে গাজার শাসকদের ব্যাপারে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাতারে চলে আসবে বৃটেন।

বৃটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিতি পাটেল বলেছেন: হামাসের রাজনৈতিক ও সামরিক শাখার মাথে পার্থক্য করা সম্ভব নয়। আগামী সপ্তাহে আমাদের সংসদে হামাসকে নিষিদ্ধের বিলটি উত্থাপন করবো। হামাস মৌলবাদী ও তীব্রভাবে ইহুদি বিরোধী। ইহুদিদের রক্ষায় হামাসের প্রতি নিষেধাজ্ঞার দরকার। হামাসের কাছে উল্লেখযোগ্যভাবে সন্ত্রাসী সক্ষমতা ও অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে।

বৃটেনের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনেট টুইটারে জানিয়েছেন, সোজা কথায়, হামাস সন্ত্রাসী একটি সংগঠন। রাজনৈতিক হাত তার সামরিক কার্যকলাপকে সক্ষম করে। একই সন্ত্রাসী – শুধু পোশাকটা আলাদা।

প্রতিক্রিয়ায় হামাস জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বৃটেন যে অপরাধ করেছে, তার ক্ষমা চাওয়ার বদলে এ আচরণ আক্রমণাত্মক। হামাস তার সমর্থকদের বৃটেনের এ পদক্ষেপের নিন্দা জানানোরর আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, হামাস মুসলিম ব্রাদারহুডের একটি শাখা। ইয়াসির আরাফাতের ফাতাহ ইসরাইলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ ছেড়ে আলোচনার পথ বেছে নিলে, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় হামাস। এ সংগঠনটি ইসরাইল রাষ্ট্রের বিরোধিতা এবং ইসরাইলের সাথে শান্তি আলোচনার বিরোধিতা করে আসছে। আরব-ইসরাইল বেশ কয়েকটি যুদ্ধে আরব দেশগুলো শোচনীয়ভাবে পরাজিত হলে – ইসরাইলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম অব্যাহত রাখলে, ফিলিস্তিনের বাদবাকি ভূখণ্ডও হারাতে হবে – আশংকায় ১৯৯৩ সালের ওসলো চুক্তিতে ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে পিএলও ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পথে আসার চেষ্টা করলে, হামাস মিঃ আরাফাতকে বিশ্বাসঘাতক বলে ঘোষণা করে এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে আপোষহীন সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধ অব্যাহত রাখে। ফিলিস্তিনে ইসরাইলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সুন্নী এ সংগঠন।

সূত্র: আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য টাইমস ও অন্যান্য।