৮ হাজার মুসলিম হত্যাকারী ম্লাদিচের যাবজ্জীবন বহাল রেখেছেন জাতিসংঘ!

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
বসনিয়া-হার্জিগোভিনার স্রেব্রেনিকা শহরে গণহত্যার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সার্ব কমান্ডার রাতকো স্লাদিচের (৭৯) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। ২০১৭ সালে তাকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলো সে।

১৯৯১ সালে যুগোশ্লোভিয়া সোশ্যালিস্ট ফেডারেশন ভেঙে পড়ার সময় ম্লাদিচ ছিলো তৎকালীন সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। পরের বছর বসনিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করলে, তার নির্দেশে সার্ব বাহিনী দেশটিকে দু টুকরো ফেলে। তখন তিন বছর ধরে চলে বসনিয়ার গৃহযুদ্ধ। এতে প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত হন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত রাতকো ম্লাদিচ ছিলো তৎকালীন সার্ব সামরিক প্রধান। ১৯৯৫ সালের জুলাইয়ে সেখানে ভয়াবহ গণহত্যা সংঘটিত হয়। তাতে অন্তত ৮ হাজার নিরস্ত্র মুসলিম পুরুষ ও বালককে হত্যা করা হয়। সাড়ে চার বছরের বিচারকাজ চলার পর, গত বছর ডিসেম্বরে আইনজীবীরা যুদ্ধাপরাধে তার যুক্ত থাকার অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবি জানান। পরে ২০১৭ সালের নভেম্বরে আদালতের রায়ে ম্লাদিচকে ঐ হত্যাকাণ্ডের হুকুমদাতা আখ্যা দেয়া হয়। আদালতের রায় মোতাবেক, তখন তার নির্দেশেই সৈনিকরা ব্যাপক গণনিপীড়ন চালায়।

বসনিয়া যুদ্ধের সময় জাতিসংঘ সার্বিয়ার সীমান্তের কাছে অবস্থিত স্রেব্রেনিয়াকে ‘নিরাপদ এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করে। হালকা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ডাচ সদস্যরা এলাকাটির নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলো। ১৯৯৫ সালের ১১ জুলাই ম্লাদিচের বাহিনীর আচমকা আক্রমণে হতবিহ্বল ডাচ শান্তিরক্ষীরা আত্মসমর্পণ করে। সার্ব বাহিনী এরপর শহরটির পুরুষ ও বালকদের নারীদের কাছ থেকে আলাদা করে। পুরুষদের বাসে করে সরিয়ে নিয়ে কিংবা দূরে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করে। পরদিন ব্রোঞ্জের বর্ম পরা ম্লাদিচ স্রেব্রেনিৎসার শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে। ক্যামেরার সামনে সে শিশুদের মাঝে চকোলেট ও মিষ্টি বিলি করে! সূত্র: বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ান।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে