আফ্রিকার সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন এরদোয়ান!

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
তুরস্ক এখন আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য, শিক্ষা, কূটনৈতিক, পরিকাঠামো, রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক আরো গভীর কর এখন নিজেদেরকে ইউরেশিয়ান নয়, আফ্রো-ইউরেশিয়ান দেশ বলছে।

২০০২ সালে সাব-সাহারান আফ্রিকার সঙ্গে তুরস্কের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল একশ কোটি ডলার। ২০১৯-এ তা হয়েছে ৭৬০ কোটি ডলার। বিদেশে তুরস্কের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি হলো প্রায় ১০০% অধ্যুষিত দেশ সোমালিয়ায়। তুর্কি সেনারা সেখানে সোমালীয় সেনাদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়। সুদান, নাইজার, চাদ, জিবুতি ও গিনির মতো মুসলিম দেশের পাশাপাশি সোমালিয়া তুরস্কের কাছ থেকে ঢালাও সাহায্য পেয়ে থাকে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতিতে আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরো ভালো করাকে খুবই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। গত ১০ বছরে আফ্রিকায় তুরস্কের কূটনীতিকদের সংখ্যা চারগুণ বাড়ানো হয়েছে। ২০০৯ সালে আফ্রিকার দেশগুলোতে মাত্র ১২টি দূতাবাস ছিলো। ২০১৯ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৪২। আরো দুইটি দূতাবাস খোলা হচ্ছে।

বিশ বছর আগে এরদোয়ান ক্ষমতায় আসার পর থেকে তুরস্ক বিশ্বে আরো বড় শক্তি হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। তাই, প্রতিবেশী দেশগুলোর বাইরে তাদের নজর পড়েছে। জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তুরস্কের আফ্রিকা নীতি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ শিক্ষাবিদ ফেডরিকো ডনেলি জানিয়েছেন, ২০০৪-০৫ সালে এরদোয়ান সরকার ঠিক করে যে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তুরস্ক নতুন করে অগ্রণী ভূমিকা নেবে। তুরস্কের দাবি ছিলো – তারা বিশ্বের অবদমিত মানুষের হয়ে কথা বলছে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বক্তব্য – বিশ্ব পাঁচ দেশের (নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫ পরাশক্তি) থেকে অনেক বড়। এ নীতিকে সামনে রেখেই এগোচ্ছে এরদোয়ানের তুরস্ক।

দক্ষিণ আফ্রিকায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূত এলিফ উলগেন বলেছেন: তুরস্ক বিশ্বের ভুলে যাওয়া গোষ্ঠীদের হয়ে কথা বলে। জতিসংঘে এরদোয়ান নির্ভয়ে অবদমিত মানুষ ও দেশের হয়ে কথা বলেছেন। তাই, তুরস্কের নেতৃত্বের দিকে এ দেশগুলো তাকিয়ে আছে।

আফ্রিকার দেশগুলোর কাছে তুরস্ক নিজেদেরকে ভাইয়ের মতো ও সাহায্যকারী দেশ হিসাবে তুলে ধরেছে। ইউরোপের দেশগুলোর ইতিহাসের তুলনায় এটি একেবারে উল্টো মেরুর অবস্থান। ইউরোপের দেশগুলো আফ্রিকায় উপনিবেশ গেড়েছিলো। ডনেলির মতে, তুরস্কের একটা সুবিধা আছে। তারা কখনো ঔপনিবেশিক শক্তি ছিলো না। উছমানীয় সালতানাতের আমলে আফ্রিকার অনেক দেশের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক ভালো ছিলো। পশ্চিমা দেশগুলোর ক্ষেত্রে তা বলা যাচ্ছে না। তারা ছিলো ঔপনিবেশিক শক্তি। কূটনীতিক উলগেনও জানিয়েছেন, তুরস্কের কোনো ঔপনিবেশিক-অতীত নেই। আর এসব দেশকে ঔপনিবেশিক আমলের কালো-স্মৃতি এখনো তাড়িয়ে বেড়ায়।

সোমালিয়াকে তুরস্ক একশ কোটি ডলার সাহায্য করেছে পরিকাঠামো বানাতে। তুরস্কের সবচেয়ে বড় দূতাবাসও সোমালিয়াতেই! ২০২০ সালে সেনেগালের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও এরদোয়ান বলেছেন: ‘আফ্রিকার মানুষদের আমরা নিজেদের ভাই-বোন মনে করি। আমরা মানবিকভাবে তাদের কষ্টকে দেখি।’ তুরস্কের এ আফ্রিকা নীতির ফলে সেদেশের মানুষের মনোভাবে পরিবর্তন এসেছে। তুরস্ক এখন যে নীতি নিয়েছে, তা কাজে এসেছে। ডিডাব্লিউর সোমালিয়ার সংবাদদাতা জানিয়েছেন, সোমালিয়ার মানুষদেরকে তুরস্কের জনগণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তারা বলবেন – ওরা আমাদের ভাই-বোন। ডনেলির মতে, আফ্রিকা সম্পর্কে তুরস্কের মানুষের ধারণাও বদলেছে। সূত্র: ডয়চে ভেলে।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে