কুরআন-হাদীসের আলোকে বিয়ের আগে প্রেম করার ভয়াবহতা!

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
বিবাহের আগে ভিন্ন পুরুষ/ মহিলার সাথে প্রেম ভালোবাসা সম্পর্ক করা হারাম। বরং বিয়ের পর স্বামীর/ স্ত্রীর সাথে ভালবাসবেন

.
নবী করিম (সাঃ) বলেছেন,
“যেখানে দু’জন বেগানা নারী-পুরুষ নির্জনে একত্রিত হয়, সেখানে তৃতীয়জন হয় শয়তান।”–
[সহীহ্ তিরমিযী, ১১৭১]
.
এখানে নির্জনে নারী ও পুরুষ কে একসাত হতে স্পষ্ট ভাষায় নিষেধ করা হয়েছে।

এখন ধরুন, আপনি বা আমি যদি কারো সাথে মোবাইলে কথা বলি, সেটাও নির্জনে একত্রিত হওয়া নয় কি?
কারন, আমরা মোবাইলে কথা বলার সময় নির্জনেই কথা বলি। নির্জনে SMS আদান-প্রদান করি। এবং তখন দুজনের মাঝে কোনোরুপ বাঁধা থাকে না।

.
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা বলেন, “তোমরা অশ্লীলতার ধারে কাছেও যেও না”–[আল ইসার ১৭:৩২]
এ বিষয়ে আরো দ্রষ্টব্য→ [সহিহ্ বুখারী: ৬৩৪৩ ও সহিহ্ মুসলিম:২৬৫৭]

রাসূল (সঃ) ইরশাদ করেছেন , চোখের যিনা হচ্ছে দেখা,কানের যিনা হচ্ছে শোনা, হাতের যিনা হচ্ছে ধরা,জিব্বার যিনা হচ্ছে কথা বলা, পায়ের যিনা হচ্ছে তার দিকে হেটে যাওয়া,
আর অন্তরের যিনা হচ্ছে তাকে নিয়ে কল্পনা করা।
(মিসকাত ৮৬)

রাসূল (সঃ) আরও ইরশাদ করেন , যে সকল নারী পুরুষ যিনা নামের অশ্লিল কাজ করবে, তারা একসাথে উলঙ্গ অবস্থায় আগুনে জ্বলতে থাকবে। ( মিসকাত ৪৬২)

.
সুতরাং কোনো গাইরে মাহরাম (যার সাথে বিবাহ সম্পর্ক হালাল) নারী বা পুরুষের সাথে নির্জনে একত্রিত হওয়া যাবে না। বাস্তবে হোক বা মোবাইলে কথা বলার মাধ্যমে।
.
ইহা স্পষ্ট হারাম ও ব্যাভিচারের শামিল। ব্যভিচার না করেও আপনার আমলনামায় ব্যাভিচারের পাপ লিপিবদ্ধ হবে।

.
ভবিষ্যতে বিবাহ করবে বলে অনেকে আবার পরিবারেরর অনুমতি নিয়েই প্রেম করে। এরকমটা অনেক পরিবার থেকে ঠিক করে রাখা হয়।
.
আফসোস এসব মূর্খ পরিবারের জন্য!
যারা তাদের সন্তান কে যিনা করার অনুমতি দিয়ে দিলো এবং নিজেরাও যিনার গুনাহের অংশীদার হলো। এইসব পিতা মাতাদের ছেলে মেয়েরাই বিচারের মাঠে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দিগুন সাস্তির কথা বলবে।

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা বলেন, সেদিন তারা বলবে,
হে আমাদের প্রতিপালক , আমরা আমাদের অভিবাবকদের, নেতাদের আনুগত্য করেছিলাম,
তখন তারা আমাদেরকে ভুলে পথে নিয়ে গেছে, তাই তাদেরকে তুমি দিগুন সাস্তি দেও।
(সূরা আহজাব আয়াত ৬৭”৬৮)

তবে যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, অর্থাৎ যারা ভুল শিক্ষা পেয়েছে, তারাও সেদিন বাচতে পারবেনা,

আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা অন্যত্রে বলেন,
সেদিন প্রত্যেকের জন্য রয়েছে দিগুন সাস্তি,
কিন্তু তোমরা তা জানোনা।
(সূরা আ”রাফ আয়াত ৩৮)

তাই হে পিতা মাতা ভাই ও বোনেরা, তোমরা সবাই সতর্ক হও, আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালাকে ভয় করো। মনে রেখো, জাহান্নাম বড় কঠীন।

আরেকটা কথা মনে রাখা উচিৎ,
.
“বিয়ের উদ্দেশ্যে প্রেম করা, আর কুরবানীর উদ্দেশ্য গরু চুরি করা উভয় টা সমান ।
(শাইখ আহমাদুল্লাহ হাফি)
.
অতএব, পরিবারিক, ব্যক্তিগত ও সামাজিক ভাবে প্রেম নামক ব্যভিচার কে প্রতিরোধ করুন।

মুফতি ইবরাহীম ফরিদ
ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ।
বসুন্ধরা ঢাকা ১২৩০

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে