জিলহজ্ব মাসের বিশেষ ফজিলত ও করণীয়।

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বছরের কিছু মাস, এবং মাসের কিছু দিন এবং দিনের কিছু অংশকে বিশেষ বৈশিষ্ট- মন্ডিত করেছেন।পবিত্র জিলহজ মাস সেগুলোর অন্যতম। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে :নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তার মধ্যে চারটি সম্মানিত। (সূরা তাওবা -৩৬)

আয়াতে উল্লেখিত সম্মানিত চারটি মাসের ব্যাখ্যায় রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন তা হল :জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব। (সহীহ বুখারী ২/৬৭২)

ইসলাম পূর্ব আরবরাও এমাসগুলোকে সম্মানিত মনে করত এবং এগুলোতে যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে বিরত থাকত।
আবার এর চারটি মাসের মধ্যে অন্যতম মাস হল জিলহজ। এ মাসটি হজের মাস। এ মাসে যেন সকল মানুষ নির্বিঘ্নে এসে হজ্ব আদায় করতে পারে সেজন্য এর আগে পরের মাস দুটিকেও সম্মানিত সাব্যস্ত করা হয়েছে (তাফসীরে ইবনে কাসীর -২/৩৯১
জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশকের ফযিলত বর্ণনা করে মহান আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন : শপথ ফজরের, শপথ দশ রাতের। (সূরা ফজর -১-২)
প্রখ্যাত মুফাসসিরীনে কেরামের মতে এ দশ রাত হল পবিত্র জিলহজ মাসের প্রথম দশ রাত। (তাফসীরে ইবনে কাসীর -৪/৫৩৫)
নিশ্চয় মহান আল্লাহ তাআলার কাছে এ দশকের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে, তাই তিনি এগুলোর শপথ করেছেন।

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস থেকেও এ দশকের ফজিলত আরো স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। তিনি ইরশাদ করেন :জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশকের ইবাদতের চেয়ে আল্লাহর নিকট আর কোনো প্রিয় ইবাদত নেই। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন :আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়? তিনি উত্তর করলেন, হ্যাঁ, তবে সে ব্যক্তি যে নিজের জান ও মাল নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় বের হয় আর কোন কিছুই নিয়ে সে ফিরে না আসে।
এছাড়াও আরো ফজিলত হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে। শুধু হজ ও কোরবানিই এ মাসের ফজিলত কে বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
এ পবিত্র মাস ও দিনগুলোতে আমাদের যেসব করণীয় কাজ রয়েছে সেগুলোর ব্যাপারে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।

এ মাসে করণীয় আমলসমূহ :
——————————————
১/আল্লাহ তাআলা যাদেরকে হজ পালন করার মত সামর্থ্য দিয়েছেন তাদের গুরুদায়িত্বটি আদায় করা, কোন ধরনের অহেতুক ওজর-আপত্তি দেখিয়ে অবহেলা না করা।
২/যাদের আর্থিক সচ্ছলতা নেই তাদের আল্লাহ তাআলার দরবারে হজের তাওফিক এর জন্য দোয়া করা। হজের তাওফীক দাতা একমাত্র তিনিই।

৩/কোরবানি দেওয়ার মতো আর্থিক সচ্ছলতা যাদের রয়েছে তাদের কোরবানি করা।

৪/জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশকে রোজা রাখা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার রোজা, যিলহজের প্রথম দশকের রোজা এবং প্রত্যেক মাসের তিন রোজা কখনো ছাড়তেন না। (মুসনাদে আহমাদ – ৭/৪০৮,হাদিস -২৫৯২০)

৫/৯ তারিখের ফজরের নামাজ থেকে ১৩ তারিখের আসরের নামাজ পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত নামাজের পরে তাকবিরে তাশরিক পড়া।

তাকবিরে তাশরিক হল :আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু,আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

৬/বিভিন্ন হাদিসে ইয়াওমে আরাফা অর্থাৎ জিলহজের ৯ তারিখের বিশেষ ফজিলত এর কথা বর্ণিত হয়েছে।

এই দিনে আল্লাহ তাআলা এত অধিক পরিমাণে মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন যা আর কোন দিন দেন না।
আরাফার ময়দানে উপস্থিত হাজীদের কথা উল্লেখ করে আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করেন, তাদের জীর্ণশীর্ণ অবস্থার উপর আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট হয়ে যান। তাই যে কোন দোয়া কবুলের উত্তম সময় হল আরাফার দিন। তাই এ দিনটিকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা উচিত।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন :আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি তিনি এর দ্বারা এক বছর আগের ও এক বছর পরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। (মুসলিম-১/৩৬৭)
এ দিনে ইখলাস ও বিশ্বাসের সাথে অধিক পরিমাণে কালিমায়ে তাওহীদ পাঠ করা উচিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন : সবচেয়ে উত্তম দোয়া হচ্ছে আরাফার দিনের দোয়া। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এ আমলগুলো যথাযথভাবে করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

(লেখক: মুফতি মুহাম্মাদ জহিরুল ইসলাম সিরাজী।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে