পবিত্র কাবা শরিফ অথবা মসজিদে নববীর ছবিযুক্ত জায়নামাজে নামায পড়া যাবে কী?

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।

ইসলামিক বিষয়ে পশ্ন উওর।
প্রশ্নঃ
সম্মানিত মুফতী সাহেব হুজুর।
কাবা শরিফ, মসজিদে নববী কিংবা মসজিদে আকসার ছবিযুক্ত জায়নামাজে নামায আদায় করা যাবে কী? এবং এতে পা লাগলে অসম্মান হবে কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।
ফযলে রাব্বি আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে।

উত্তরঃ
প্রথম কথা হচ্ছে, কাবা শরিফ, মসজিদে নববী কিংবা মসজিদে আকসা ইত্যাদির ছবিযুক্ত মুসল্লায় (জায়নামাজে) নামায আদায় করা যাবে। কোনো সমস্যা নেই। কারণ এগুলো প্রাণহীন বস্তুর ছবি। আর প্রাণহীন বস্তুর ছবিযুক্ত মুসল্লায় (জায়নামাজে) নামায আদায় করা মাকরুহ্ নয়।
দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, কাবা শরিফ, মসজিদে নববী ও আকসা শিয়ারে ইসলাম (ইসলাম ধর্মের প্রতীক)।
এগুলোকে সম্মান করা তাকওয়ার পরিচায়ক।
সুতরাং সতর্ক থাকতে হবে যেন এগলোর ছবিতে পা না লাগে। সতর্কতার দাবী হচ্ছে এমন মুসল্লা না ক্রয় করা যেন তৈরি বন্ধ হয়ে যায়।

প্রামাণ্য গ্রন্থাবলীঃ
১.
وَمَن يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقْوَى الْقُلُوبِ
আর যে আল্লাহর শিআরের সম্মান করে এটা তো তাকওয়াশীল অন্তরের পরিচায়ক।
সুরা হজ্ব – আয়াত ৩২

২.
عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ إِنِّي رَجُلٌ أُصَوِّرُ هَذِهِ الصُّوَرَ فَأَفْتِنِي فِيهَا ‏.‏ فَقَالَ لَهُ ادْنُ مِنِّي ‏.‏ فَدَنَا مِنْهُ ثُمَّ قَالَ ادْنُ مِنِّي ‏.‏ فَدَنَا حَتَّى وَضَعَ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ قَالَ أُنَبِّئُكَ بِمَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏”‏ كُلُّ مُصَوِّرٍ فِي النَّارِ يجْعَلُ لَهُ بِكُلِّ صُورَةٍ صَوَّرَهَا نَفْسًا فَتُعَذِّبُهُ فِي جَهَنَّمَ ‏”‏ ‏.‏ وَقَالَ إِنْ كُنْتَ لاَ بُدَّ فَاعِلاً فَاصْنَعِ الشَّجَرَ وَمَا لاَ نَفْسَ لَهُ

সাঈদ ইবনু আবূল হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর কাছে এসে বলল, আমি এসব ছবি একে থাকি; তাই এ বিযয় আপনি আমাকে ফাতওয়া দিন। তিনি বললেন, তুমি আমার নিকটে এস। সে তার কাছে এলে তিনি বললেন আরো কাছে এস। সে আরো কাছে এলে তিনি তার মাথায় হাত রেখে বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যা শুনেছি, তা তোমাকে বলে দিচ্ছি।

আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি প্রত্যেক ছবি অঙ্কনকারী জাহান্নামের অধিকারী। তার অংকিত প্রতিটি ছবিতে প্রাণ দেয়া হবে, তখন সেগুলি জাহান্নামে তাকে আযাব দিতে থাকবে। তিনি আরও বললেন, তোমাকে একান্তই যদি (তা) করতে হয়, তা হলে গাছ (পালা) এবং যার প্রাণ নেই, সে সবের (ছবি) তৈরি কর
সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৫৩৫৯

৩. হালবী কাবীরে রয়েছে যে,(পৃ. ৩৫৯)
وأما صورة غير ذي الروح فلاخلاف في عدم كراهة الصلاة عليها أو إليها
অর্থাৎ প্রাণহীন বস্তুর ছবিযুক্ত মুসল্লায় নামাজ আদায় করা অথবা তার দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করা মাকরুহ না হওয়ার ব্যাপারে সকল ইমাম একমত পোষণ করেছেন।
৪. ফাতাওয়া শামী – ২/৩৬১
৫. আল বাহরুর রায়েক – ২/৪৮
৬. হাশিয়াতুত তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ – ৩৬২
৭. ফাতাওয়া হিন্দিয়াহ – ১/১০৭
৮. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া- ৬/৬৭০

উত্তর প্রদান করেছেন।
আব্দুল্লাহ ইদরীস- সহকারী শিক্ষা পরিচালক, জামিয়া দারুল উলুম মুহিউস সুন্নাহ আখাউড়া,ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে