পর্ণোগ্রাফি একজন মানুষকে দুর্ধর্ষ, ও ভয়ঙ্কর অমানবিক বানিয়ে দেয়!

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।

রাইহান উদ্দিন: সমাজে এখন শুধু তরুণ তরুণীরাই নয় এখন প্রায় সব বয়সের মানুষই পর্ণোগ্রাফির জগতে আনাগোনা করেন বলে একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে। পর্ণোগ্রাফিতে আসক্ত সমাজ কখনোই একজন নারীকে সম্মানের চোখে দেখতে পারে না। কোন নারীর দিকে চোখ পড়া মাত্রই সে নারীকে যৌনতার দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করে। করোনা মহামারি এ লকডাউনের সময় বিশ্বে পর্ণো সাইটে আনাগোনা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

এদিকে এই বিষয়ে বিশ্ব মনোবিজ্ঞানীরা বলেছেন, পর্ণোগ্রাফি একজন মানুষকে দুর্ধর্ষ, অমানবিক বানিয়ে ছাড়ে। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, পর্ণোগ্রাফি দেখার ফলে মানুষের মস্তিষ্ক কড়া মাদক সেবনকারীর মস্তিষ্কের মতো বিকৃত হয়ে যায়। তাছাড়া আরো গবেষণায় পর্ণোগ্রাফির ভয়াবহ সম্পর্কে আলোচনা পর্যালোচনা করা হয়েছে।

পর্ণোগ্রাফি যেসব ক্ষতি করে-পর্ণোগ্রাফি থেকে মাস্টারবেশনের অভ্যাস তৈরি হয়। ফলে চোখের সমস্যা, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, মাথা ব্যথা, মাথা ঘুরা ও শারিরিক দূর্বলতা দেখা দেয়। যখন একজন মানুষ পর্ণোগ্রাফি দেখা শুরু করে তখন তার রক্তের চাপ বাড়তে শুরু করে। তার হৃদয়স্পনদন কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে যদি তিনি দূর্বল হৃদয়ের মানুষ হন, তাহলে তার হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি মারাত্মক ভাবে বেড়ে যায়। তাছাড়া পর্ণোগ্রাফির দেখার ফলে আরো অনেক ক্ষতি রয়েছে।

পর্ণোগ্রাফির ভয়াল নেশা থেকে বাচার উপায় :
পর্ণোগ্রাফির ভয়াল নেশা থেকে বেরিয়ে আসতে বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন- সবচেয়ে ভাল উপায় হলো, ধর্মীয় কাজে মনোযোগী হওয়া। গভীর মনোযোগের সঙ্গে নামাজ আদায় করা। আল্লাহকে যথাযথ ভয় করা। সামর্থ্য থাকলে বিয়ে করা। অন্যথায় নিয়মিত রোজা রাখা। কখনো একাকি অবস্থায় ইন্টারনেট ব্রাউজ না করা। মোবাইল ও পিসিতে পর্ণো ব্লক এ্যাপস ব্যবহার করা। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, পর্নোগ্রাফির ভয়াল নেশা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কয়েকটি ধর্মীয় কিতাব সংগ্রহ করে মনোযোগ দিয়ে অধ্যায়ন করা যেতে পারে – ১. মুক্ত বাতাসের খোঁজে। ২. ফেরা। ৩. বেলা ফুরবার আগে। ৪. ফিরে এসো নীড়ে। ৫. অভিশপ্ত রংধনু ইত্যাদি।

শেষ কথা হলো, ভাই আমার! জীবন আপনারই, আর এ জীবনকে আপনাকেই আলোকিত করতে হবে। কেন ; কেন এ সুন্দর জীবনকে আপনি নিজের হাতে ধ্বংস করে দিচ্ছেন, অথচ আল্লাহ তায়ালা কুরআনে কারিমে বলেছেন, ‘তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৯৫)
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজীকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন কারণে অধিকাংশ মানুষ জাহান্নামী হবে? রাসুল (সা.) উত্তর বলেন, ‘মুখ ও লজ্জাস্থান।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস ২০১০) অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবি করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের মুখ ও লজ্জাস্থানের হেফাজতের জিম্মাদারি নিবে আমার তার জান্নাতের জিম্মাদারি নিবো।’ (সহিহ বুখারী, হাদিস ৬৪৭৪)

অতএব, ফিরে আসুন ভয়াল অন্ধকার এই নীল জগত থেকে, আজই ; এখনই ফিরে আসুন। মসজিদে গিয়ে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে তাওবা করুন, নিজের জীবনকে আলোকিত করুন। মনে রাখবেন, আপনার জীবনকে আপনারই আলোকিত করতে হবে, তা অন্য কেউ আলোকিত করবে না। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে আমাকে হেফাজত করুন। আমিন।

লেখক: রাইহান উদ্দিন
শিক্ষার্থী, জামিয়া দারুল উলুম মুহিউস সুন্নাহ আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

ঈষৎ বর্ধিত: মুফতী আব্দুল্লাহ ইদরীস

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে