কুরআন ও হাদীসের আলোকে মুবাহালার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
মুবাহালা: হক এবং বাতিলের মাঝে কোন রকম দ্বন্দ্ব হলে, বাতিল পন্থীর সামনে যাবতীয় দলীল-প্রমাণ উপস্থাপন করার পরও সে যদি হঠকারিতা করে, তবে তাকে মুবাহালার জন্য আহবান করা হবে। তার নিয়ম হচ্ছেঃ উভয় পক্ষ নিজের স্ত্রী, সন্তান-সন্ততিকে উপস্থিত করবে, অতঃপর প্রত্যেক পক্ষ বলবে, আমরা যদি বাতিল পন্থা উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি, তবে মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর লা’নত (অভিশাপ)। এটাকেই বলে মুবাহালা। সূরা আলে ইমরান- আয়াত নং- ৬১।

 فمن حاجك فيه من بعد ما جائك من العلم فقل تعالوا ندع ابنائنا و ابنائكم و نسائنا و نسائكم و انفسنا و انفسكم ثم ‏نبتهل فنجعل لعنه الله على الكاذبين (آل عمران: 61).

ফখরে রাযি বর্ণনা করেছেন: হযরত মুহাম্মদ (সা.) বনী নাজরানদের গুষ্ঠির জন্য অনেক প্রমাণ উপস্থাপন করে কিন্তু এই মুর্খ সম্রদায় তাদের মুর্খতার কারণে নিজেদের কথার উপর অবিচল থাকে।

রাসুল সাঃ তাদেরকে বলেছেন: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা আমাকে আদেশ দিয়েছেন যে, যদি তোমরা যুক্তি প্রমাণকে না মেনে নাও, তাহলে তোমাদের সাথে আমরা মোবাহালা করবো। তখন পাদ্রিরা বলল: আমরা যাচ্ছি আমাদের কাজ নিয়ে চিন্তা ভাবনা করবো, অতঃপর আমরা আপনার কাছে আসবো।

যখন তারা ফিরে আসল তাদের বুদ্ধিদাতা আক্বেবকে বলল: হে আব্দুল মসীহ (মসীহ বা ঈসার বান্দা) আপনার অভিমত কি?
তখন সে বলল: আমার সৃষ্টি কর্তার কসম, তোমরা খুব ভাল করেই জানো যে, মোহাম্মদ আল্লাহর পক্ষ হতে প্রেরিত নবী এবং তোমাদের ঈসা (আ.) সম্পর্কেও সত্য বাণী নিয়ে এসেছেন … প্রিয় নবী (সা.) কাঁধে একটি কালো পশমের আবা পরিত অবস্থায় বেড়িয়ে আসলেন এবং ইমাম হোসাইনকে (আ.) কোলে ও ইমাম হাসানের (আ.) হাত ধরে আর হযরত ফাতেমা (সা.) তাঁর পেছনে এবং আলী (আ.) ফাতেমার (সা.) পেছনে দাঁড় করালেন, এবং নবী করিম (সা.) বললেন: যখনই আমি দোআ করবো তোমরা আমিন বলবে।

নাজরানের এক খ্রীষ্টান পাদ্রি এই অবস্থাকে লক্ষ করছিল, সে বলল: “ আমি এমন চেহারাগুলো দেখছি, যদি তাঁরা সৃষ্টি কর্তার কাছে পাহাড়কে নিজের অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার জন্য প্রার্থনা করে সৃষ্টি কর্তা তাই করবেন, তাই তাদের সাথে মোবাহালা করা উচিৎ হবে না।কারণ একবারে দংশ হয়ে যাবে এবং কেয়ামত পর্যন্ত এই জমিনে একজন খ্রীষ্টানও অবশিষ্ট থাকবে না ।

হাদীস শরিফে বর্ণিত হয়েছে যে,
“যখন হযরত মুহাম্মদ (সা.) পশমের আবা পরে বের হয়ে আসলেন তখন হাসান (রা.) এলেন এবং নবী করিম (সা.) তাঁকে আবা’ র মধ্যে নিয়ে নিলেন,
অতঃপর হোসাইন (রা.) এলেন তাকেও আবা’ র মধ্যে নিয়ে নিলেন,
এর পর ফাতেমা (সা.) ও তার পর আলী (রা.) এলেন নবী করিম (সা.) তখন তাতহীরের আয়াত পড়লেন  «انما یرید الله…<<‌‌‌
আর জেনে রাখা ভাল যে, তাফসির ও হাদীস বিষারদদের কাছে এই হাদীস সহীহ ও সত্য বলে সবাই ঐক্যমত।
 

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে