রাসূল সা. যেসব বিষয় থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ্ চেয়েছেন। (১)

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
উম্মত দরদী রাসূল সা. উম্মতকে দোয়া করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। শিখিয়েছেন দোআর বাক্যাবলী। যা আজ ও হাদিসের কিতাবসূহে হুবহু সংরক্ষিত। যার মাঝে কিছু আছে সকাল সন্ধ্যায় পাঠ করার দোয়া। দোয়াগুলো পাঠের ইহতিমাম ও গুরুত্ব দেওয়া অতীব জরুরী

উস্তাদে মুহতারাম মুফতী মোশাররফ হোসাইন কাসেমী হাফিযাহুল্লাহ বলছিলেন, সকাল সন্ধ্যার অযিফা পাঠ করবে কেবলামূখী হয়ে,তাহলে মনে ও দিলে বেশী প্রভাব পড়বে।
উস্তাদে মুহতারাম মুফতী মুহসিনুল করীম হাফিযাহুল্লাহকে এক বছর অতি নিকট থেকে দেখেছি প্রতিদিন বাদ ফজর নিজ রুমে এসে কেবলামুখী হয়ে অযিফা পাঠ করতে,সকাল সন্ধ্যার দোয়া পাঠ করতে।

উস্তাদে মুহতারাম হাফেয মাওলানা আবু হানিফা মুহাম্মদ তৈয়্যিব – হাফিযাহুল্লাহ আমাকে খুব গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, আব্দুল্লাহ! মানুষ ঔষধ খেয়ে আর কৌশল অবলম্বন করে কত বেঁচে থাকতে পারবে?
সকাল সন্ধ্যার দোয়াগুলো পাঠ করবে। এগুলো হচ্ছে মানুষের জন্য রক্ষাকবচ।

তবে সকাল সন্ধ্যার আমলের ক্ষেত্রে কয়েকটি কথা মনে রাখতে হবে।
১. মৌলিক ইবাদত যত্নের সাথে যথাযথভাবে আদায় করা।
২. হাদিসে পাকে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী আমল করা।
৩. ইয়াকীন ও বিশ্বাস নিয়ে আমল করা।
৪. যাবতীয় গোনাহ ও পাপ থেকে বেঁচে থাকা।
৫. নিয়মিত আমল করা।
উল্লিখিত কয়েকটি বিষয় মনে রেখে আমল করলেই পুরোপুরি উপকার ও ফলাফল পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।

মানবতার মুক্তির দূত মুহাম্মদ সা. রব্বুল আলামিনের নিকট কিছু বিষয় থেকে পানাহ ও আশ্রয় চেয়েছেন।
উম্মতকেও সে সব বিষয় থেকে পানাহ চাওয়ার জন্য আদেশ করেছেন।
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! আজ আপনাদের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে রাসূল সা. যে সব বিষয় থেকে পানাহ চেয়েছেন তার প্রথম পর্ব উল্লেখ করব। চেষ্টা অব্যাহত থাকবে হাদিসের কিতাবসমূহতে ঢুঁ মেরে পুরো বিষয়টি আপনাদের সামনে উন্মোচন করার ইনশাআল্লাহ।

১.
রাসূল সা. দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা, অক্ষমতা,অলসতা,ভীরুতা,কৃপণতা, ঋণের বোজা ও মানুষের রোষানল থেকে রব্বুল আলামিনের নিকট আশ্রয় চেয়েছেন। এ মর্মে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ الْمَسْجِدَ فَإِذَا هُوَ بِرَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُ أَبُو أُمَامَةَ فَقَالَ ‏”‏ يَا أَبَا أُمَامَةَ مَا لِي أَرَاكَ جَالِسًا فِي الْمَسْجِدِ فِي غَيْرِ وَقْتِ الصَّلَاةِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ هُمُومٌ لَزِمَتْنِي وَدُيُونٌ يَا رَسُولَ اللهِ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ أَفَلَا أُعَلِّمُكَ كَلَامًا إِذَا أَنْتَ قُلْتَهُ أَذْهَبَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ هَمَّكَ وَقَضَى عَنْكَ دَيْنَكَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ قُلْ إِذَا أَصْبَحْتَ وَإِذَا أَمْسَيْتَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ فَفَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَذْهَبَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ هَمِّي وَقَضَى عَنِّي دَيْنِي

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাসজিদে প্রবেশ করে সেখানে আবূ উমামাহ নামক এক আনসারী সাহাবীকে দেখতে পেয়ে তাকে বললেনঃ হে আবূ উমামাহ! কি ব্যাপার! আমি তোমাকে সলাতের ওয়াক্ত ছাড়া মাসজিদে বসে থাকতে দেখছি? তিনি বললেন, সীমাহীন দুশ্চিন্তা ও ঋণের বোঝার কারণে হে আল্লাহর রসুল! তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাকে এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দিবো না, তুমি তা বললে আল্লাহ তোমার দুশ্চিন্তা দুর করবেন এবং তোমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থাও করে দিবেন? তিনি বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেনঃ তুমি সকাল-সন্ধ্যায় বলবেঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা থেকে আশ্রয় চাই। আমি আশ্রয় চাই অক্ষমতা ও অলসতা হতে, আপনার কাছে আশ্রয় চাই ভীরুতা ও কার্পন্য হতে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই ঋণের বোঝা ও মানুষের রোষানল হতে’’। আবূ উমামাহ (রাঃ) বলেন, আমি তাই করলাম। ফলে মহান আল্লাহ আমার দুশ্চিন্তা দূর করলেন এবং আমার ঋণ পরিশোধের ব্যাবস্থাও করে দিলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস নং ১৫৫৫।

প্রিয় পাঠক ও পাঠিকাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এই বিষয়ে আমরা ধারাবাহিক লিখা প্রকাশ করবো ইনশা-আল্লাহ্।
(লেখক: মুফতি আব্দুল্লাহ ইদ্রীস)

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে