শাওয়াল মাসে রোযা রাখার বিরাট ফজিলত ও উপকারিতা সমূহ।

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
রমজানের পরবর্তী মাস হচ্ছে শাওয়াল। শাওয়ালের রোযা নফল হলে ও এর অনেক ফজিলত রয়েছে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘যখন তুমি (ফরজ দায়িত্ব পালন থেকে) অবসর হবে, তখন (নফল ইবাদতের মাধ্যমে) তোমার রবের প্রতি মনোনিবেশ করো’ (সুরা-৯৪ ইনশিরাহ, আয়াত: ৮)

এবার আমরা শাওয়াল মাসে রোযা রাখার ফজিলত ও অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করব।

১.এ মাসে রোযা রাখার বিরাট প্রতিদান।
হাদিস শরিফে এ মাসে রোযা রাখার বিরাট ফজিলত ও প্রতিদানের কথা বর্ণিত হয়েছে,আবূ আইয়ুব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যাক্তি রমযান মাসের সিয়াম পালন করল, তারপর শাওয়াল মাসে ছয় দিনকে তার অনুগামী করল (অর্থাৎ ৬টি সিয়াম পালন করল), সে যেন সারা বছর রোযা রাখল। (সহীহ মুসলিম হাদিস নং ২৬২৯)

কেননা প্রত্যেক নেকীর প্রতিদান দশ গুণ হয়ে থাকে,অতএব (৩০+৬)=৩৬ দিন ×১০ = ৩৬০ হয়ে গেল।

এক বর্ণনায় রয়েছে, প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা শাওয়াল মাসের ৬ দিনে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এই মাসে ৬ দিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক সৃষ্ট জীবের সংখ্যা হিসাবে তার আমলনামায় নেকি দেবেন, সমপরিমাণ গুনাহ মাফ করবেন এবং পরকালে তার দরজা বুলন্দ করে দেবেন।’ হযরত বিশর হাফি রহ.কে বলা হল একটি সম্প্রদায় রমজান মাসে খুব ইবাদত-বন্দেগি করে তখন তিনি বলেন, সেই সম্প্রদায় কতই মন্দ যে রমজান মাসে আল্লাহর হক বুঝে, সৎ তো সে যে সারা বছর ইবাদত বন্দেগি করে।

২.রমজানের রোযার ক্ষতিপূরণঃ
রমজানের রোযা যথাযথভাবে রাখা সম্ভব হয়নি কিছু না কিছু ত্রুটি আমাদের হয়ে গেছে সেই দোষ ত্রুটি ও ঘাটতির ক্ষতিপূরণ হচ্ছে শাওয়ালের রোযা, যেমনিভাবে ফরজ নামাজের ঘাটতির ক্ষতিপূরণ হচ্ছে নফল নামাজ। এ মর্মে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে,
কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সর্ব প্রথম হিসাব নেওয়া হবে সালাতের। যদি তা সঠিক বলে গণ্য হয়, তবে সে হবে কল্যাণপ্রাপ্ত ও সফলকাম। আর যদি তা সঠিক বলে গণ্য না হয়, তবে সে হবে অসফল ও ক্ষতিগ্রস্ত। ফরযের মধ্যে যদি কোন ক্রটি দেখা যায়, তবে মহান প্রভু বলবেনঃ লক্ষ্য কর, আমার বান্দার কোন নফল আমল আছে কি? তা দিয়ে তার ফরযের যতটুকু ক্রটি আছে তা পূরণ করে দাও। পরে এতদনুসারেই হবে অন্যান্য সব আমলের অবস্থা। (জামে তিরমিজি হাদিস নং ৪১৩)

৩.রমজানের রোযা কবুল হওয়ার নিদর্শনঃ
একটি নেক আমল কবুলের নিদর্শন হচ্ছে পরবর্তী আরেকটি নেক আমলের তাওফিক লাভ করা। সুতরাং শাওয়ালের রোযা রাখার তাওফিক লাভ করার অর্থ হচ্ছে রমজানের রোযা কবুল হওয়া।

৪.আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের মাধ্যম। নফল ইবাদত আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের মাধ্যম।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ যে ব্যাক্তি আমার কোন ওলীর সঙ্গে শক্রতা রাখবে, আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষনা করি। আমার বান্দা আমি যা তার উপর ফরয ইবাদতের চাইতে আমার কাছে অধিক প্রিয় কোন ইবাদত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করবে না। আমার বান্দা সর্বদা নফল ইবাদত দ্বারা আমার নৈকট্য অর্জন– করতে থাকবে। এমন কি অবশেষে আমি তাকে আমার এমন প্রিয় পাত্র বানিয়ে নেই যে আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে। আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে সবকিছু দেখে। আর আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমিই তার পা হয়ে যাই, যার দ্বারা সে চলে। সে যদি আমার কাছে কোন কিছু সাওয়াল করে, তবে আমি নিশ্চয়ই তাকে তা দান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় চায়, তবে অবশ্যই আমি তাকে আশ্রয় দেই। আমি যে কোন কাজ করতে চাইলে এটাতে কোন রকম দ্বিধা সংকোচ করি-না যতটা দ্বিধা সংকোচ মুমিন বান্দার প্রাণ হরণে করি। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তার কষ্ট অপছন্দ করি।
(সহীহ বুখারী হাদিস নং ৬০৫৮)

শাওয়ালের রোযা রাখার নিয়মঃ
শাওয়ালের ছয় রোযা, ধারাবাহিকভাবে রাখা যায় কিংবা বিক্ষিপ্তভাবে রাখা যায় কিংবা পুরো মাসের মধ্যে ছয় দিন রাখলেই হবে। (শামী- ২/৪৩৫)

(লেখক: মুফতি আব্দুল্লাহ ইদরীস শিক্ষক ও ইসলামী গবেষক)

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে