শীতকাল হচ্ছে মুমিনের জন্য ইবাদতের বসন্ত। (হযরত মুহাম্মদ সা:)

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, শীতকাল হচ্ছে মুমিনের জন্য (ইবাদতের) বসন্ত। দিন ছোট হওয়ার দরুণ রোযা রাখা যায় আর রাত বড় হওয়ার দরুণ তাহাজ্জুদ আদায় করা যায়। (সুনানে বায়হাকী)

হযরত ওমর রাযি. বলেন,শীতকাল হচ্ছে মুমিনের জন্য গনীমত।

হযরত আবু হুরায়রা রা. বলতেন, আমি কী তোমাদেরকে শীতল গনীমত সম্পর্কে অবহিত করব না? তারা বললেন,অবশ্যই। তিনি বলেন শীতল গনীমত হচ্ছে শীতকালীন রোযা রাখা ও তাহাজ্জুদ আদায় করা।
হযরত উবাইদুল্লাহ বিন উমাইর রহ. শীতকাল আসলে বলতেন, হে কুরআনের ধারক- বাহকগণ! রাত দীর্ঘ হয়েছে তোমাদের তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য আর দিন ছোট হয়েছে রোযা রাখার জন্য।

শীতকালে আমরা যে ইবাদগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করতে পারি তার একটি সংক্ষিপ্ত সূচী।

১.দিন ছোট হওয়ার কারণে নফল রোজা সহজেই রাখা যায়। নফল রোজায় অভ্যস্ত হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ।
২.রমজানের কাযা রোযা থাকলে আদায় করা।
৩.হাদিসের আলোকে আমরা জেনেছি যে,রাসুল সা. সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। এমনিভাবে প্রতি মাসের ১৩,১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখতেন। বিভিন্ন সময় আমরা নানানরকম অযুহাত দিয়ে এসব রোজা ছেড়ে দেয়। তাই শীতকালে এগলোর প্রতি মনোনিবেশ করতে পারি।

৪.রাত বড় হওয়ার ধরণ শেষ রাতে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করে রবের নৈকট্য লাভের সুযোগ।
তাহাজ্জুদে অভ্যস্ত হওয়ার উপায়।

৫.অযুর প্রতি যত্নবান হওয়া। গুরুত্বের সাথে পূর্ণাঙ্গভাবে অযু করা। কারণ শীতের দিনে অযু করতে কষ্ট হয়। ইচ্ছে হয় না ঠান্ডা পানি দিয়ে অযু করার। ভালোভাবে অযুর ফজিলত বর্ণিত হয়েছে,
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সাহাবীদের বললেন আমি কি তোমাদের এমন এক বিষয়ের কথা বলব, যার কারণে আল্লাহ তা‘আলা গুনাহ্ বিদূরিত করে দিবেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন? সাহাবীগণ বললেন অবশ্যই বলুন, হে আল্লাহর রাসূল! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তা হলঃ কষ্টকর অবস্থায়ও পূর্ণ ভাবে অযু করা, অধিক পরিমাণে মসজিদ পানে গমন করা , এক সালাতের পর আরেক সালাতের অপেক্ষা করা। এ হলো জিহাদের প্রস্তুতি নিয়ে সীমান্ত প্রতিরক্ষার মত।(জামে তিরমিজি হাদিস নং ৫১]
(লেখক,মুফতী আব্দুল্লাহ ইদরীস)

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে