সেবার আড়ালে ঘুষ গ্ৰহন!

0

our Times News

গ্রামের মানুষ হয় সহজ- সরল ও সাদামাটা। শহর সম্পর্কে জ্ঞান রাখে না। রোগাক্রান্ত হলে প্রথমে পল্লী চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করে। সুস্থ হয়ে গেলে তো শেষ। চিকিৎসা গ্রহণের পর স্বাস্থ্যের উন্নতি না হলে শহরমুখী হয় ভালো ডাক্তার দেখানোর জন্য। সে তো আর ভালো ডাক্তার ও হসপিটাল সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখে না, তাই বাধ্য হয়ে কারো মধ্যস্ততায় ভালো ডাক্তার দেখাতে হসপিটালে যায়। আর মধ্যস্ততাকারী তাকে এমন হসপিটালে নিয়ে যায় যেই হসপিটালের কর্তৃপক্ষ থেকে সে রোগী প্রতি কমিশন পায়।

২.
অধিকাংশ মেডিকেলের ডাক্তাররা নির্ধারিত ঔষধ কোম্পানির ঔষধ লিখে কিংবা নির্ধারিত ফার্মেসীর ঔষধ কিনতে বলে। এর বিনিময়ে তারা ঔষধ কোম্পানি কিংবা ফার্মেসী থেকে কমিশন পায়।
এখন আলোচনার বিষয় হল যে, মধ্যস্ততাকারী কিংবা ডাক্তারদের জন্য কমিশন নেওয়া বৈধ হবে কী?
বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আমরা শরীয়তের দলীলের ভিত্তিতে খতিয়ে দেখব ইনশাআল্লাহ।

প্রথম কথা হল,
মানুষ একাকী চলতে পারে না। একে অপরের সাহায্য নিয়ে চলতে হয়। মানুষ জীবনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন চাহিদা মিটাতে বিভিন্ন মানুষের ধারস্থ হয়।

দ্বিতীয় কথা হল,
সৃষ্টিজীবের সেবা করতে পারা বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়। এই সৌভাগ্য সবার ভাগ্যে জুটে না। তাই এই নেয়ামতের যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত।

তৃতীয় কথা হল,
একে অপরের কল্যাণ কামনা করা। কল্যাণের দৃষ্টি ভঙ্গি লালন করা। সবার ভালো চাওয়া। হিতাকাঙ্ক্ষী হওয়া। শুভাকাঙ্ক্ষী হওয়া।
সুতরাং কোনো রোগী যখন কারো মধ্যস্ততায় ডাক্তার দেখাতে হসপিটাল যায় তখন মধ্যস্ততাকারীর কর্তব্য হল, সাধ্যমত ভালো হসপিটালের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া। কমিশনের আশায় রোগীর সাথে প্রকারণা করা ধোকার শামিল।

মানুষ ভালো সেবা পেতে ডাক্তারের নিকট নিয়ে যায়। তাই ডাক্তারের কর্তব্য হল, সর্বোচ্চ পর্যায়ের উন্নত সেবা প্রদান করা। রোগীর স্বাস্থ্যসম্মত ও সাশ্রয়ী ঔষধের প্রেসক্রিপশন দেওয়া। কমিশনের আশায় নির্ধারিত ঔষধ কোম্পানির ঔষধ প্রেসক্রিপশন না করা।

শেষ কথা হল,
মধ্যস্ততাকারী হসপিটাল কর্তৃপক্ষ থেকে এবং ডাক্তার ঔষধ কোম্পানি থেকে কমিশন নেওয়া ঘুষ।
কাজেই তা নাজায়েজ ও হারাম।
তাই উভয়কেই এমন গর্হিত কাজ থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক কর্তব্য।

প্রামাণ্য গ্রন্থাবলীঃ
১.
রব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেন,
তারা মিথ্যা বলার জন্য গুপ্তচরবৃত্তি করে, হারাম ভক্ষণ করে।
সুরা মায়েদা – আয়াত নং ৪২
২.
আবদুল্লাহ্‌ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুষদাতা এবং গ্রহীতার উপর লা’নত করেছেন।
সুনানে আবু দাউদ হাদিস নং ৩৫৪২
৩.
রাসূল সা. এরশাদ করেন, ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়ই জাহান্নামী।
(মুজামে তবরানী)
৪.
আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) বলেন, আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে জাতির মাঝে যিনা-ব্যভিচার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে তারা দুর্ভিক্ষ ও অভাব-অনটনে পতিত হবে। আর যে জাতির মাঝে ঘুষের ব্যাপক প্রচলন শুরু হবে তারা ভীরুতা ও কাপুরুষতায় পতিত হবে।
মুসনাদে আহমদ হাদিস নং ১৭৮২২
৫. আল বাহরুর রায়েক -৬.৪৪১
৬. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া- ২৮.৪১২
৭. আহসানুল ফাতাওয়া – ৫.২১৪
৮. কিতাবুল ফাতাওয়া – ৬.২৪৭

[লেখক: মুফতী আব্দুল্লাহ ইদরীস ]

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে