আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক সম্পাদকীয়: হুসাইন আল আজাদ ইবনে নোয়াব আলী
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিই স্পষ্ট বলে দিচ্ছে যে, মুসলিম বিশ্বের জন্য বর্তমান সময়টি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। ফিলিস্তিনে নির্বিচার হাজার হাজার শিশু হত্যা, আন্তর্জাতিক আইন স্পষ্ট লংঘন করে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাদের হত্যাযজ্ঞে মেতেছে ইসরাইল আমেরিকা জোট,
ফিলিস্তিনের পর ইরানের ঘরবাড়ি-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-ধর্মীয় অবকাঠামোয় বোমা হামলা ও রাজনৈতিক ভাঙন-এগুলো সকলই দাজ্জালী পরিকল্পনার অংশ। বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা বিভক্ত, সন্ত্রস্ত এবং অনিরাপদ। মানুষ এখনই সতর্ক না হলে সম্ভাব্য পারমাণবিক সংঘাত পৃথিবীকে নাশ করে দিতে পারে। এই সম্পাদকীয়তে বিশ্লেষণ করা হলো মুসলিম বিশ্বে এই ভয়ঙ্কর হুমকির বাস্তবতা, কুরআন ও হাদিসের আলোকে মুসলিমদের করণীয় এবং সম্ভাব্য পরিণতি।
ইসরায়েল-আমেরিকা’সহ ২২ মিত্র দেশের এক জোটের রহস্য
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র শুধুমাত্র নিজেদের নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে একজোট হয়েছে। তাদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আরও ২০টি দেশ, যারা বিভিন্ন কৌশলগত সমর্থন দিচ্ছে। এই জোটের লক্ষ্য মুসলিম বিশ্বের বিভাজন এবং আঞ্চলিক শক্তি হ্রাস করা। তারা বিভিন্নভাবে মধ্যপ্রাচ্যের সরকার প্রধানদের প্রভাবিত করে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। ফলে মুসলিম দেশের মধ্যে অশান্তি ও বিবাদ সৃষ্টি হচ্ছে, যা একে অপরের সঙ্গে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়। কুরআনে বলা হয়েছে, “সত্যের পথে দৃঢ় থাকো, বিভাজিত হও না” (সূরা আলে ইমরান ৩:১০৩), যা আমাদের সতর্ক করে যে ঐক্য ছাড়া কোনো জাতি স্থিতিশীল থাকতে পারে না। হাদিসে বলা হয়েছে, “মুমিনরা একে অপরের জন্য দেহের মতো” (সহিহ বুখারি), অর্থাৎ একে অপরকে রক্ষা না করলে দুর্বল হয়ে পড়বে।
ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে ইসরাইল-আমেরিকা যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যের নি/ র্লজ্জ মুসলিম বিশ্ব নেতাদের বোকা বানাচ্ছে!
মধ্যপ্রাচ্যের অনেক সরকার প্রধানরা নিজেদের ক্ষমতা রক্ষার স্বার্থে ইসরাইল-আমেরিকার মতো বড় শক্তিগুলোর কাছে নিজেদেরকে নি/ র্লজ্জ গোলামে পরিণত করছে, ইসলামবিদ্বে/ ষী পশ্চিমা জোট কৌশলে মুসলিম বিশ্ব নেতাদের প্রভাবিত করে মুসলিমদের মধ্যে ভয়ংকর বিবাদ সৃষ্টি করছে।
ইরানের মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি করে স্থানীয় শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই কৌশল দ্বন্দ্বকে দীর্ঘায়িত করছে এবং সাধারণ মানুষকে ক্ষতির মুখে ফেলে দিচ্ছে।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন, “যে নিজের স্বার্থের জন্য অন্যদের বিপদ সৃষ্টি করে, তার জন্য আখেরাতের ফল দুঃখজনক” (সূরা আল-হাশর ৫৯:১৮)।
হাদিস শরীফ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, বলেছেন, “অন্যের ওপর অন্যায় করা হলে আল্লাহ্ তা প্রতিফলিত করেন” (সহিহ মুসলিম)।
মুসলিম-মুসলিম সংঘাতের ভয়ঙ্কর বাস্তবতা বড় শক্তির প্রভাবের কারণে মুসলিমরা মাঝে মাঝে নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতি দেখা যায়, যেখানে প্রতিবেশী দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। কৌশলগত বিভাজনই বৃহৎ শক্তির সুবিধা দেয়। মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ না হলে তাদের দুর্বলতা exploited হয়।
কুরআন নির্দেশ দেয়, “তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং বিভক্ত হও না” (সূরা আলে ইমরান ৩:১০৩)।
হাদিসে শরীফে রাসুল সাঃ বলেছেন, “যারা একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা দেখায়, তারা সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রিয়” (সহিহ বুখারি), যা মুসলিমদের ঐক্যের গুরুত্ব স্মরণ করায়।
ফি/ লিস্তিনে নির্বিচারে শিশু হ/ত্যাযর মানবিক বিপর্যয়
ফিলিস্তিনে শিশুদের উপর সহিংসতার মাত্রা ভয়ঙ্কর। ঘরবাড়ি ধ্বংস, স্কুল ও হাসপাতাল বিনষ্ট হচ্ছে। অনাহার, চিকিৎসা সংকট এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে পুরো প্রজন্ম অনিশ্চয়তায়।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন,, “একজন নিরপরাধ মানুষকে হ/ ত্যা করা সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করার সমান” (সূরা মায়িদা ৫:৩২)।
হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “অন্যের জীবন রক্ষা করাই মুমিনের জন্য বড় প্রাপ্তি” (সহিহ বুখারি)।
দ’খ’লদার ই/সরাইল কর্তৃক শিশু হ/ ত্যার এই ভয়াবহতা মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা।
ইরানকে লক্ষ্য করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। যদি এ ধরনের সংঘাত বড় হয়, তবে তা বৈশ্বিক রূপ নিতে পারে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন বলেন, “যুদ্ধের সময় ধৈর্য ধারণ করো এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকো” (সূরা আল-আনফাল ৮:৭৫)। হাদিসে বলা হয়েছে, “যুদ্ধের সময় নিরীহদের ক্ষতি করা যাবে না” (সহিহ মুসলিম)।
ইরানের তুলনায় সামরিক শক্তির দিক থেকে মধ্যম শক্তির মুসলিম দেশগুলোতে হামলার ঝুঁকি।
বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ মধ্যম শক্তি দেশগুলো সহজেই সংঘাতের ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বড় শক্তিগুলো তাদের অবস্থান এবং সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই ঐক্যবদ্ধ কৌশল, কূটনীতি এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনা অপরিহার্য।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন বলেন, “তোমরা একে অপরের সহায় হও, অন্যায় না কর” (সূরা আল-মাইদাহ ৫:২)। হাদিসেও বলা হয়েছে, “একজন মুমিন অন্য মুমিনের জন্য পাহারাদার” (সহিহ বুখারি)।
খুব শীঘ্রই সমগ্র বিশ্বে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা
বড় শক্তিগুলো পারমাণবিক অস্ত্রধারী। সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে পারমাণবিক ঝুঁকি বাড়বে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন বলেন, , “যে জীবন ধ্বংস করে, আল্লাহ তার জন্য প্রতিফলন রাখবেন” (সূরা মায়িদা ৫:৩২)।
হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “বিশ্বকে ধ্বংস করার জন্য কেউ অন্যায় করলেই তার ফল ভয়ঙ্কর” (সহিহ মুসলিম)।
পারমাণবিক যুদ্ধ মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ।
তথ্যযুদ্ধ ও প্রচারের প্রভাব, সংঘাতে শুধু অস্ত্র নয়, তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সত্য বিকৃত করা হয়। মুসলিমদের উচিত তথ্য যাচাই করা এবং বিভ্রান্তি এড়িয়ে চলা।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন, “যে কথা যাচাই না করে ছাপায়, সে পাপের অধিকারী” (সূরা হুজুরাত ৪:৬)।
হাদিসে বলা হয়েছে, “অসংগত কথা প্রচার করো না, কারণ এটি অশান্তি সৃষ্টি করে” (সহিহ মুসলিম)।
বর্তমান মুসলিম বিশ্বের জন্য সবচেয়ে জরুরি এবং প্রধান কাজ হলো, সমগ্র মুসলিম দেশগুলোকে এখনই ঐক্যবদ্ধ হওয়া। কারণ রাজনৈতিক ঐক্য, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমন্বয় ছাড়া মুসলিম বিশ্বের স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ বলেন, “বিভাজিত হও না, ঐক্যবদ্ধ থাকো” (সূরা আলে ইমরান ৩:১০৩)।
হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যারা একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা দেখায়, তারা প্রিয়” (সহিহ বুখারি)।
মূল কথা হলো, ঐক্য ছাড়া বড় বড় শক্তিও দুর্বল।
ভবিষ্যৎ গাজওয়াতুল হিন্দের সংকেত!
হাদিস অনুযায়ী, গাজওয়াতুল হিন্দ হবে মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। এতে কোটি কোটি মানুষ মারা যাবে, মুসলিমদের ওপর বড় বিপর্যয় আসবে।
হাদিসে শরীফে রাসূলুল্লাহ্ সাঃ বলেন, “বড় সংঘাতের আগে প্রতিটি মুমিনকে সতর্ক থাকতে হবে” (সহিহ মুসলিম)।
দাজ্জালের আশঙ্কা ও সতর্কতা
হাদিস শরীফ রাসূল সাঃ বলেছেন, দাজ্জালের আগমন আগে বিশ্বে বড় ধরনের বিভ্রান্তি এবং নিরীহ হত্যাযজ্ঞ হবে। মুসলিমরা যদি ঐক্যবদ্ধ না হয়, তবে তারা সহজলভ্য লক্ষ্য হবে।
কুরআনে বলা হয়েছে, “সত্যের পথে দৃঢ় থেকো, মিথ্যার কাছে না মাথা নত করো” (সূরা আল-ইমরান ৩:১৮)।
হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “দাজ্জালের প্রতিরোধের জন্য ঈমানদাররা একত্রিত হবে” (সহিহ মুসলিম)।
বর্তমান বিশ্বের এঈ ভয়াবহ সময়ে মুসলিম বিশ্বের করণীয়
বর্তমান সংকটে মুসলিম বিশ্বের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো ঐক্য, শক্তিশালী নেতৃত্ব এবং কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও ভেতরের বিবাদ থেকে মুক্ত হয়ে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন, “তোমরা একে অপরকে সাহায্য করো, অন্যায় থেকে বিরত থাকো” (সূরা আল-মাইদাহ ৫:২)। হাদিসে বলা হয়েছে “একজন মুমিন অন্য মুমিনের জন্য পাহারাদার” (সহিহ বুখারি)। এই ধরনের ঐক্যই আল্লাহর অনুগ্রহে ইসলাম বিদ্বেষীদের হাত থেকে মুসলিম বিশ্বকে আল্লাহ রক্ষা করবেন।