আওয়ার টাইমস নিউজ।
ইসলামি জীবন ডেস্ক: সপ্তাহের সাতটি দিনের মধ্যে জুমার দিন হলো আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয়, মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময়। মুমিনের জন্য এই দিনটি সাপ্তাহিক ঈদের আনন্দ এবং পরকালের পাথেয় অর্জনের এক মহাসুযোগ। আর এই জুমার দিনে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যে আমলগুলোর ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো পবিত্র কোরআনের ১৮ নম্বর সূরা—সূরা আল-কাহফ তিলাওয়াত করা।
জুমার সুবাসিত আবহে নিজের আত্মাকে ধন্য করতে এবং সপ্তাহের সব গোনাহ মাফ করিয়ে নেওয়ার জন্য সূরা কাহফ তিলাওয়াতের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে। কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে সপ্তাহের এই শ্রেষ্ঠ দিনে সূরা কাহফ তিলাওয়াতের প্রধান
ফজিলতগুলো তুলে ধরা হলো:
১. এক জুমা থেকে অন্য জুমা পর্যন্ত বিশেষ নূরের রোশনাই
জুমার দিনে সূরা কাহফ তিলাওয়াতের প্রধান ফজিলত হলো, এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তিলাওয়াতকারীর জন্য একটি বিশেষ আসমানি আলো বা নূর দান করেন।
হযরত আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম (সা.) এরশাদ করেছেন:
مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْكَهْفِ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ أَضَاءَ لَهُ مِنَ النُّورِ مَا بَيْنَ الْجُمُعَتَيْنِ
অর্থ: "যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা আল-কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত আলোর আভা বিচ্ছুরিত হতে থাকবে।" (সুনানে বায়হাকী: ৫৯৯৬)
২. দাজ্জালের ভয়াবহ ফিতনা থেকে সুরক্ষা
কিয়ামত পূর্ববর্তী সময়ে মানবজাতির জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ ও কঠিন পরীক্ষা হবে দাজ্জালের ফিতনা। নবী করিম (সা.) তাঁর উম্মতকে দাজ্জালের ধ্বংসাত্মক ফিতনা থেকে আত্মরক্ষার জন্য সূরা কাহফের প্রথম ও শেষ ১০টি আয়াত নিয়মিত চর্চা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
হযরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজী (সা.) বলেন:
مَنْ حَفِظَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ سُورَةِ الْكَهْفِ عُصِمَ مِنَ الدَّجَّالِ
অর্থ: "যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।" (সহিহ মুসলিম: ৮০৯)
৩. মধ্যবর্তী সময়ের গোনাহ খাতা মাফ
জুমার দিন জুমুআর নামাজ আদায় করা এবং সূরা কাহফ তিলাওয়াত করার উসিলায় আল্লাহ তাআলা বান্দার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের সগীরা (ছোটখাটো) গোনাহগুলো ক্ষমা করে দেন।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠকারীর পায়ের নিচ থেকে আসমান পর্যন্ত এক জ্যোতি বা নূর উদভাসিত হবে, যা কিয়ামতের দিন তার আলোর কাজ করবে এবং তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সব গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (আল-তারগীব ওয়াত তারহীব)
৪. অন্তরে আসমানি প্রশান্তি (সাকীনা) নাজিল
সূরা কাহফ তিলাওয়াতের সময় বিশেষ আসমানি প্রশান্তি ও রহমতের ফেরেশতারা অবতীর্ণ হন। সহিহ বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, এক সাহাবী ঘরে সূরা কাহফ তিলাওয়াত করছিলেন। তিলাওয়াতের আকুলতায় তাঁর বাঁধা ঘোড়াটি চমকে উঠতে থাকে। তিনি দেখেন, একখণ্ড মেঘ তাঁকে ঘিরে রেখেছে। নবীজী (সা.)-কে তা জানালে তিনি বললেন, এটিই ছিল 'সাকীনা' বা আসমানি প্রশান্তি, যা কোরআন তিলাওয়াতের কারণে নাজিল হয়েছিল।
সূরা কাহফ পড়ার উপযুক্ত সময়
জুমার রাতের সূচনা হয় বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকেই এবং এর মেয়াদ থাকে শুক্রবার সূর্যাস্ত (মাগরিবের আজান) পর্যন্ত।
সেরা সময়: শুক্রবার জুমার নামাজের পূর্বে অথবা আসর থেকে মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ে নির্জন পরিবেশে মনোযোগের সাথে এই সূরাটি তিলাওয়াত করা অত্যন্ত উত্তম।
কেউ যদি ব্যস্ততার কারণে একবারে পুরো সূরা শেষ করতে না পারেন, তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু করে শুক্রবার মাগরিবের আগ পর্যন্ত ভেঙে ভেঙে তিলাওয়াত করলেও পুরোপুরি ফজিলত লাভ করবেন ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে ইখলাসের সাথে প্রত্যেক জুমার দিন সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করার তাওফীক দান করুন আমীন।
লেখকঃ হুসাইন আল আজাদ ইবনে নোয়াব।
বিশিষ্ট ইসলামিক লেখক গবেষক।