আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর টানা পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও, ঘটনার পরের পুরো ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে, তবুও পোড়া ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও ধোঁয়া বের হচ্ছে। দেড় হাজারের বেশি ঘর ভস্মীভূত হওয়ায় পরিবারগুলো শেষ সম্বল খুঁজতে ভিড় করছেন ঘটনাস্থলে।
বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বস্তির বিশাল অংশজুড়ে ছাই, পোড়া টিন ও জ্বলে যাওয়া কাঠের স্তূপ। আগুন নেভানোর পরও বিভিন্ন স্থানে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ছাই–মাখা টিনের নিচে খুঁজছেন পোড়া জিনিসপত্রের অবশিষ্টাংশ।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হান্নান জানান, “সব পুড়ছে। কাপড়চোপড় কিছুই বাঁচেনি। ভিজে যাওয়া একটা কম্বল পেয়েছি, এটাই এখন ভরসা। আরও কিছু পাওয়া যায় কি না খুঁজে দেখছি।”
এদিকে বস্তির প্রবেশমুখগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস. এন. নজরুল ইসলাম।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে বৌবাজার এলাকার একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘিঞ্জি কাঠামো, শুকনো আবহাওয়া এবং সরু গলির কারণে আগুন দ্রুত শতাধিক ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রথমে সাতটি ইউনিট গিয়ে কাজ শুরু করলেও, পরে একে একে মোট ১৯টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। পানির সংকট ও সরু রাস্তার কারণে নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে। শেষে লেক থেকে পাইপ টেনে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে, দেড় হাজারের মতো ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক বিবরণ পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।