অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার আবেদন ফেরত দিয়েছে আদালত!

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
আল-জাজিরার প্রচারিত ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ শিরোনামের প্রতিবেদনের সাথে সংশ্লিষ্ট চারজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার আবেদন শুনানি শেষে তা ফেরত দিয়েছে আদালত। ফলে, এ আবেদনের প্রেক্ষিতে আর কোন মামলা হচ্ছে না।

মঙ্গলবার দুপুরে এ মামলা গ্রহণের পক্ষে বাদী পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি শোনেন ঢাকার মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলাম। বিকালে আদেশে তিনি বলেন: রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নেয়ায় মামলাটি ফেরত দেয়া হলো।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরন বলেন: আদালত বলেছেন যে, বাংলাদেশের আইন মোতাবেক, রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে কোনো মামলা করতে হলে, সরাসরি সরকার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করতে হয়। আর কোনো ব্যক্তি মামলা করতে চাইলে, তাকে সরকারের কাছ থেকে আগেই অনুমতি নিতে হবে যে, তিনি রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করতে পারবেন কিনা? সরকার অনুমতি দেলেই কেবল কোনো ব্যক্তি মামলা করতে পারবেন। এছাড়া নয়। সেকারণেই মামলার আবেদনটি আদালত আমলে না নিয়ে বাদী বরাবর ফেরত দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে যে, বাদী সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়েই মামলার আবেদন করেছেন। তবে বাদী অনুমোদন নিয়ে আবার নতুনভাবে মামলাটি দায়ের করতে চাইলে, সেক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না।

এ বিষয়ে মামলার আবেদক বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সভাপতি মশিউর মালেক জানান, আদালত বলেছে যে, রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়েরের জন্যে সরকারের অনুমোদন থাকার দরকার হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন না থাকায় আবেদনটি বাতিল করার কথা জানানো হয়। আমি মামলাটি করতে অনুমোদন নিতে সরকারের সাথে যোগাযোগ করবো। সরকার অনুমোদন দিলে, আমি তা নিয়ে মামলাটি আবার দায়েরের আবেদন করবো। আর অনুমোদন না দিলে, আমি আর আবেদন করবো না।

১৭ই ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলাটির আবেদন করেন মশিউর মালেক। এতে তিনি অভিযোগ এনেছিলেন যে, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান এবং তার ভাইদের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন আল-জাজিরায় প্রচার করে রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। আবেদনে অভিযুক্তরা হলেন – বৃটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান, সুইডেন প্রবাসী সাংবাদিক তাসনিম খলিল, হাঙ্গেরি প্রবাসী বাংলাদেশী জুলকারনাইন সামী এবং আল-জাজিরার ডিরেক্টর জেনারেল ও প্রধান সম্পাদক মোস্তেফা স্যোয়াগ। মালেক যে, তাসনিম খলিল, জুলকারনাইন সামী ও ডেভিড বার্গম্যানের তৈরি ষড়যন্ত্রমূলক একটি প্রতিবেদন – যেটার মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত এবং উস্কে দিয়ে বর্তমান সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করা হয়েছে – সেই প্রতিবেদন আল-জাজিরা কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেছে। ফলে, আল-জাজিরার প্রধান সম্পাদকও একই অভিযোগে অভিযুক্ত। সে হিসেবে এ চারজনসহ এদের নেপথ্যে মদদদাতা ও অর্থযোগানদাতাসহ তাদের সবার বিরুদ্ধে তদন্তের মাধ্যমে রহস্য উদঘাটন করে কারা কারা জড়িত, তা বের করে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। এটাই ছিলো আমাদের মূল বক্তব্য।

১৮ই ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে ২৩শে ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বা অনুমতির প্রয়োজন হয়।

১লা ফেব্রুয়ারি ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ নামের এ প্রতিবেদনটি প্রথম প্রচারের পর থেকে এখন পর্যন্ত এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে