আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: ময়মনসিংহ নটর ডেম কলেজে প্রশাসনিক অনিয়ম, আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব এবং সাতজন স্থায়ী শিক্ষককে ‘অযৌক্তিকভাবে’ বহিষ্কারের অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বহিষ্কৃত শিক্ষকরা সংবাদ সম্মেলন করে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে ১৯ নভেম্বর থেকে আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে বহিষ্কৃত শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কলেজে প্রশাসনিক একচেটিয়াতন্ত্র, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডে অনিয়ম এবং যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি না দেওয়ার মতো সমস্যা চলমান রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুললেই শিক্ষকরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হন।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রসায়ন বিভাগের বহিষ্কৃত প্রভাষক মোস্তাফিজার রহমান রানা। তাঁর সঙ্গে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের জহিরুল ইসলাম, ইংরেজির মাহামুদুল হাসান মামুন, জীববিজ্ঞানের মাহমুদ হাসান ও পদার্থবিজ্ঞানের সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
তারা জানান, বহিষ্কার আদেশ বাতিল, মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার, স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রাপ্য পাওনাদি প্রদানসহ ছয় দফা দাবি আদায় না হলে তাঁদের আর কোনো পথ থাকবে না।
এর আগে ১৪ আগস্ট শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা ১৯ দফা দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। দাবি বাস্তবায়নে স্মারকলিপি দেওয়া, ক্লাস–পরীক্ষা বর্জন ও ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করা হয়।
শিক্ষকদের অভিযোগ, কলেজে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনে অনিয়ম চললেও প্রশাসন দায় এড়ায়। নিয়মিত শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন না করে অধ্যক্ষ একচ্ছত্র ক্ষমতা বজায় রেখেছেন। তথ্য গোপন, জবাবদিহিতার অভাব ও পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে।
তারা আরও জানান, পূর্ববর্তী আন্দোলনের পর কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের ৬০ লাখ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়, কিন্তু এরপর থেকেই আন্দোলনে জড়িতদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানি আরও বাড়ে। প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতা চরমে পৌঁছালে সম্প্রতি সাতজন শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়, যা তারা ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা বলেন,
“বহিষ্কার আদেশ বাতিল না হলে এবং প্রশাসনিক অনিয়ম বন্ধের নিশ্চয়তা না মিললে কঠোর কর্মসূচি ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।”