আল্লাহর রাসূলের বলা সেই কালোজিরাতেই করোনা ভাইরাসের সফল চিকিৎসা, সৌদি আরবের গবেষকদের দাবি।

0

পুরো পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত সর্বমোট করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭৮ লাখ ৭২ হাজার ৬শত ১৯ জন এবং মারা গিয়েছেন সর্বমোট ৪ লাখ ৩২ হাজার ৬-শত ৭৫ জন। ভয়ঙ্কর করোনাভাইরাসের ওষুধ ও ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য হন্যে হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সারাবিশ্বের গবেষকগণ।

আরবের মাদিনার তাইবাহ্ ইউনিভার্সিটির গবেষকগণ দাবি করেছেন, করোনায় আক্রান্ত রোগীর সফলভাবে চিকিৎসা করেছেন তারা। তারা মরনব্যধি করনার সু চিকিৎসায় কালোজিরা ব্যবহার করছেন; এবং তারা বলছেন আল্লাহর প্রিয় নাবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর দেখানো চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে সফলতা পেয়েছেন।

মাদীনার এই গবেষকদলের গবেষণাপত্রের এই খবর ছাপা হয়েছে মার্কিন জার্নাল ‘পাবলিক হেলথ রিসার্চ’-এ।
মুসলিম ইঙ্ক নাকে এক প্রতিবেদনে লিখা হয়েছে- হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, কালোজিরা হলো সর্বরোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার ওষুধ। তবে বিষ ছাড়া। আয়েশা (রা:) জিজ্ঞেস করেছেন, বিষ কী? রাসূল (সা.) বলেছেন, মৃত্যু। (সহীহ বুখারি-৫৩৬৩)

আরবের এই গবেষকগন তাদের গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেন, কালোজিরা ব্যবহারের ফলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। টিস্যু সুরক্ষিত থাকে, ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্থ হয় না এবং ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কালোজিরা হলো আল্লাহর রাসূল (সা:) এর দেখানো সর্ব উওম চিকিৎসা উপকরণ।

কালোজিরার অনেক রকম ঔষধি গুণ রয়েছে। এতে রয়েছে- নাইজেলোন, থাইমোকিনোন, লিনোলিক অ্যাসিড, ওলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিংক, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফেট, সেলেনিয়াম, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-বি ২, নায়াসিন, ভিটামিন-সি, ফসফরাস, কার্বোহাইড্রেট।

গবেষক দলের দাবি, কালোজিরা ব্যবহারের ফলে মারাত্মক ভাইরাস সংক্রমণও প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং ফুসফুসের সমস্যা ধীরে ধীরে সেরে যায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে , কালোজিরা ফুসফুস ও শ্বাসনালি ভালো রাখতে ভীষণ কার্যকর। যেই সমস্ত মানুষের শ্বাসকষ্ট রয়েছে, কালোজিরার ব্যবহারে তারাও আরোগ্য লাভ করবেন। শ্বাসযন্ত্রের যে কোনো ধরনের সংক্রমণ ঠেকাতে কালোজিরা অভাবনীয় ঔষুধ। অ্যালার্জি থেকে মুক্তি দিতেও কালোজিরা কার্যকর।
গবেষকরা দাবি করেছেন, হেপাটাইটিস সি-তে আক্রান্ত রোগীও কালোজিরা ব্যবহারে উপকৃত হবেন এছাড়াও। এইচআইভি এইডস-এ আক্রান্ত রোগীও কালোজিরা ব্যবহারে উপকৃত হবেন।করোনাভাইরাসে আক্রান্ত
রোগীকে কালোজিরা ব্যবহারের মাধ্যমে সারিয়ে তোলার জন্য গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন।

কালোজিরা ব্যবহার করার নিয়মাবলী।
দুই গ্রাম কালোজিরা, এক গ্রাম চামেলি ফুল ও এক চামচ মধু একত্রে ভালোভাবে মিশিয়ে খেতে হবে। এসব খাওয়ার পর জুস কিংবা একটি মালটা খাওয়া যেতে পারে। লেবু খেতে পারলে বেশি ভালো হবে। এভাবে নিয়যম করে প্রতিদিন একবার করে খেতে হবে। করোনামুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এভাবে খেয়ে যেতে হবে।
গবেষক দল আরো জানান, কোন রুগী আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হলেই প্রথম সপ্তাহে দিনে ৫-বার উপরে উল্লেখিত নিয়মে খেতে হবে। এরপর পরবর্তী সময়ে এই ভাইরাস শেষ না হওয়া অবধি দিনে একবার করে খেতে হবে।

সংক্রমণ রুগীর যদি কাশির পরিমাণ বেশি হয় এবং নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে কালোজিরার সাথে লবঙ্গ মেশানো পানি গরম করে নাক দিয়ে ধোঁয়া টেনে নিবেন । অথবা কালোজিরা এবং চামেলি পানিতে গরম করে বাষ্প টেনে নিতে হবে।
গবেষকগণ বলছেন, যদি কারো অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়, তারা এক চামচ কালোজিরা, এক চামচ চামেলি ও এক কাপ পানি একটি পাত্রের মধ্যে নিয়ে হালকা গরম করবে এবং এভাবে দিনে পাঁচ থেকে ছয়বার পানি গরম করে বাষ্প নাক দিয়ে টেনে নিতে হবে।
জানা গিয়েছে, সৌদি আরবের তাবিয়াহ্ ইউনিভার্সিটির মেডিসিন ক্লিনিক্যাল বায়োক্যামিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার মেডিসন বিভাগের গবেষকরা এ নিয়ে গবেষণা করেছেন।
গবেষকগনর একজন ডা: সালেহ মুহাম্মাদ দাবী করেন কালোজিরা এবং চামেলির ব্যবহার করোনাভাইরাস সংক্রমণ বন্ধ করে দিতে সক্ষম। ,তারা জানান আল্লাহর রহমতে যেসব করোনা সংক্রমণ রোগীদের তাবিয়াহ্ ইউনিভার্সিটির চিকিৎসা পদ্ধতিতে কালোজিরা ব্যবহারের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হযয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ্ তাদের সবাই সেরে উঠছেন। এই নিয়মে করনা সংক্রমণ রোগীদের সেরে উঠতে এক সপ্তাহের ও বেশি সময় লাগছে না। ( সূত্র : মুসলিম ইঙ্ক-আমেরিকান জার্নাল অব পাবলিক হেলথ রিসার্চ

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে