ইউরোপে বিলুপ্ত হতে চলেছে গৃহবাসী চড়ুই

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
আরএসপিবি (ওয়াইল্ডলাইফ চ্যারিটি সংগঠন), বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনাল ও চেক সোসাইটি ফর অর্নিথোলজির বিজ্ঞানীদের যৌথ এক গবেষণায় জানা গেছে, দিন যতো যাচ্ছে, ততোই ইউরোপে দ্রুত কমছে গৃহবাসী চড়ুইর সংখ্যা।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গত ৩৭ বছরে ইউরোপে এ পাখীর সংখ্যা কমেছে ২৪ কোটি ৭০ লাখ! সে হিসাবে সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্তির পথে রয়েছে এ প্রজাতিটি। ইইউ ও যুক্তরাজ্যের দেশগুলোতে বসবাসকারী ৪৪৫টি পাখীর প্রজাতির মাঝে ৩৭৮টির উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৯৮০ সাল থেকে ২০১৭ পর্যন্ত প্রজনন পাখীর সামগ্রিকতা কমেছে ১৭ থেকে ১৯%। পাখীর সংখ্যার মোট ও আনুপাতিক হ্রাস – বিশেষ করে, কৃষি জমির সাথে যুক্ত প্রজাতির মাঝে বেশী।

চড়ুই হলো একমাত্র পাখী – যার বিস্তৃতি সবচেয়ে বেশী। আদুরে প্রকৃতির এ পাখী মানুষের কাছাকাছি থাকতে খুব ভালোবাসে। এজন্যই এদের ইংরেজি নাম ‘হাউস স্প্যারো’, অর্থাৎ ‘গৃহবাসী চড়ুই’। খড়কুটো ও শুকনো ঘাসপাতা দিয়ে কড়ি কাঠে, কার্নিশে বাসা বাঁধে; বসবাস করে। মাটি থেকে পোকামাকড় আর শস্যদানা খুঁটে খায়। এছাড়া, ফুলের কুঁড়ি, বাদাম জাতীয় ফল খাবার হিসাবে গ্রহণ করে।

ঐ গবেষণাটিতে দেখা গেছে, এ গৃহবাসী চড়ুইই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে! যেখানে তাদের নিকটাত্মীয় গাছ চড়ুই কমেছে ৩০ মিলিয়ন। উভয় প্রজাতির চড়ুইর সংখ্যা কমেছে চাষাবাদের পদ্ধতি পরিবর্তনের কারণে। ঘরের চড়ুইগুলো অনেক শহর থেকে বিলুপ্তই হয়ে গেছে। যে কারণে সেসব এলাকায় এভিয়ান ম্যালেরিয়ার মতো রোগ এবং বায়ুদূষণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গবেষণা বলছে, রাসায়নিক পদ্ধতিতে চাষের কারণে পোকামাকড় কমতে থাকে। ফলে, পাখীগুলো তাদের খাবারের উৎস হারায়। এ কারণেই চড়ুইসহ অন্যান্য পাখীর সংখ্যা কমেছে।

গবেষণার প্রধান লেখক এবং আরএসপিবির ঊর্ধ্বতন সংরক্ষণ বিজ্ঞানী ফিওনা বার্নস বলেন: আমাদের অধ্যয়ন বলছে, পাখীরা আসলে বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে। প্রকৃতি ও জলবায়ু সংকট এক সাথে মোকাবিলা করতে আমাদের সমাজজুড়ে রূপান্তরমূলক পদক্ষেপের প্রয়োজন।

এর অর্থ হলো – প্রকৃতিবান্ধব কৃষি, প্রজাতির সুরক্ষা, টেকসই বনায়ন, মাছ চাষের মাত্রা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাড়ানো এবং সংরক্ষিত এলাকার নেটওয়ার্ক দ্রুত সম্প্রসারণ করা।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে