প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কলেজ ছাত্রকে অপহরণ করে জোরপূর্বক বিয়ে করলেন এক তরুণী!

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
সমাজে আমরা সাধারণত দেখে থাকি যে, কোন মেয়ে কোন ছেলের বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হলে ছেলে তার দলবল নিয়ে ওই মেয়েটিকে তুলে নিয়ে জোর করে বিয়ে করে। কিন্তু বরিশালে এবার ঘটলো ভিন্ন এক ঘটনা।

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার নাজমুল আকন নামের এক ছেলেকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন একই উপজেলার ইশরাত জাহান পাখি নামের এক তরুণী। কিন্তু নাজমুল আকন ওই তরুণীর প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার ফলে ওই তরুণীর তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের নিয়ে ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রকে অপহরণ করে জোরপূর্বক বিয়ে করেন।

এই চাঞ্চল্যকর অদ্ভুত ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালী জেলার লঞ্চঘাট এলাকাতে। জানা গিয়েছে, নাজমুল আকন পটুয়াখালী জেলার মির্জাপুর উপজেলার জালাল আকনের ছেলে। এবং অভিযুক্ত ইশরাত জাহান পাখি একই উপজেলার গাজিপুর গ্রামের মুহাম্মদ আউয়াল মিয়ার মেয়ে। এমন অদ্ভুত ঘটনায় ওই এলাকার মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ভুক্তভোগী কলেজছাত্র নাজমুল আকনের পরিবার গেল ৩ অক্টোবর পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার পাশাপাশি জোরপূর্বক এই বিয়ের একটি ভিডিও ক্লিপ আদালতে উপস্থাপন করেন। এরপর আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি নথিভুক্ত করতে পটুয়াখালী সদর থানাকে নির্দেশ দেন।

জানা গিয়েছে, এই মামলার বাদী নাজমুল আকনের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল নোমান জানিয়েছেন,নাজমুল পটুয়াখালী সরকারি কলেজের কলেজের আবাসিক হোস্টেলে থেকে লিখাপড়া করছে। প্রায় অনেক দিন ধরেই অভিযুক্ত ওই তরুণী নাজমুলকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু নাজমুল তার ওই প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করায় গত মাসের ২৭ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী লঞ্চঘাট এলাকা থেকে অভিযুক্ত পাখির সাঙ্গ-পাংগের সাত থেকে আটজন মিলে নাজমুলকে অপহরণ করে অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে যায়। এবং সেখানে নাজমূলকে বিভিন্ন রকম ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক একটি নীল কাগজের মাধ্যে সই করতে বাধ্য করেন। মূলত ওই নিল কাগজের মাধ্যমে তারা একটি কাবিননামা তৈরির অপচেষ্টা করেছিলেন।

এদিকে এ ঘটনার বিষয়ে, পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, রোববার বিকালেই আদালতের নির্দেশে ভুক্তভোগী নাজমুল আকনের অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আদালত একজন অফিসারকে তদন্ত করার নির্দেশও দিয়েছেন।
ইতিমধ্যে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে