প্রানঘাতী করোনাভাইরাস টেস্ট ফি বাতিল করতে মানববন্ধন করছেন ইশা ছাত্র আন্দোলন!

0

স্টাপ রিপোর্টার:

অদ্য ৪ঠা জুলাই ২০২০ খ্রীস্টাব্দ রোজ শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড স্টেশনে
করোনা টেস্ট ফি বাতিল, স্বাস্থ্যখাতে লুটপাট ও চরম অব্যবস্থাপনা এবং সীমান্তে নির্বিচারে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে শাখার সভাপতি শিব্বির আহমাদ এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ সারোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসেন জিহাদী।
জিহাদী বলেন, এতদিন বিনামূল্যে করোনা ভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এর শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হলেও এবার নির্ধারণ হলো সরকারী হাসপাতাল বা বুথে নমুনা নিলে-২০০টাকা, বাড়ি থেকে নমুনা নিলে-৫০০টাকা।

করোনা সংক্রমণে যখন দেড় লাখ অতিক্রম করলো তখন সরকার এর টেস্ট করতে ফি নির্ধারণ করলো। টেষ্ট করতে গিয়ে পদে পদে ভোগান্তি তো আছেই তারপর আবার এই দূর্যোগের সময় করোনা টেস্টে ফি নির্ধারণ করাতে নিম্ন আয়ের লোকের হাসপাতালে যাওয়ার সম্ভাবনা আরো কমে গেল। সবাই টেস্ট করাতে না গেলে সমাজের আসল চিত্রটা জানা যাবে না৷ আর টেস্ট করানোর দায়টা তো স্বাস্থ্য বিভাগের৷ জনগণ বুথে এসে নমুনা দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করছে৷ তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনিই বলেন যে আপনাকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে, তার কাছ থেকে উলটো পয়সা নেবেন? আর এই সিদ্ধান্তটা অসাংবিধানিক৷ সংবিধানে সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবার কথা বলা আছে৷ করোনা টেষ্টে ফি আরোপের মাধ্যমে এখন এই সেবাটা আর সবার থাকলো না৷ অনতিবিলম্বে করোনা টেস্ট ফি বাতিল করতে হবে।

স্বাস্থ্যখাতের চলমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে প্রধান অতিথি মাওলানা আনোয়ার হোসেন জিহাদী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অবকাঠামো দূর্বল, এটা নতুন কথা নয়। কিন্তু এখন কোভিড-১৯ সংকটের কারণে এটা আরও ব্যাপকভাবে প্রকাশ হলো বা জানা গেলো। দেখা যাচ্ছে, যেসব জিনিস ক্রয় করা হচ্ছে, সেটার জন্য বাজারের যে মূল্য, তার থেকে পাঁচ থেকে দশ গুণ বেশি মূল্য দেখানো হচ্ছে। বিভিন্ন সময় স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটায় দুর্নীতির সাথে যে ঠিকাদার বা সরবরাহকারীরা জড়িত থাকে, এখন করোনাভাইরাস দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে সেই শ্রেনী আর নগ্নভাবে তা করছে। স্বাস্থ্য খাতে যে দুর্নীতি হয়, তা কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষাপটে তা আমাদেরকে আরো স্পষ্ট করে দিয়েছে যে কতটা দুর্নীতি হয়। কেনাকাটার ক্ষেত্রেই দুর্নীতিটা বেশি হচ্ছে। আজ স্বাস্থ্যখাতে যতো অব্যবস্থাপনা ও দূর্নীতি হচ্ছে এর সম্পূর্ণ দায় মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর। তার অস্বাস্থ্যকর নেতৃত্বের জন্যই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দিন দিন ভাগাড়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতে যতো অনিয়ম দূর্নীতি হচ্ছে তাতে মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অযোগ্যতাই প্রকাশ পায়। আমরা একটি স্বাধীন দেশে অযোগ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেখতে চাই না। তাই আজকের মানববন্ধন থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি এবং যেসকল দূর্নীতিবাজরা দূর্নীতি করে স্বাস্থ্যখাতকে কুলষিত করতেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা সভাপতি শিব্বির আহমাদ বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্বের ‘বসন্তকাল’ চলছে৷ কিংবা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাজ করছে দুই দেশের সরকার—এমন সব কথার ফুলঝুড়ি হরহামেশাই শোনা যায়৷ কিন্তু বাস্তব চিত্রটা ভিন্ন৷
সীমান্তে বাংলাদেশিকে গুলি কিংবা নির্যাতন করে হত্যা নিয়মতি ঘটনা গত বছরের প্রথম ছয়মাসে সীমান্তে যতগুলো হত্যাকাণ্ড হয়েছে, এই বছরের প্রথম ছয়মাসে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। সবগুলো হত্যার সঙ্গে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ জড়িত।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল, আর নির্যাতনে মারা গেছেন দুই জন।

অথচ ২০২০ সালের প্রথম ছয়মাসে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে।

অন্যদিকে, ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পুরো সময়টায় ভারতের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বা বিএসএফ’র হাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪৩ জন বাংলাদেশি – যাদের মধ্যে ৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন গুলিতে, আর বাকি ৬ জনকে নির্যাতন করে মারা হয়।

চলতি ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের গুলি ও নির্যাতনে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সংগ্রহ করা তথ্যে দেখা গেছে।

এসব তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত সীমান্তে ২৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২১ জনেরই মৃত্যু হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের সৈন্যদের গুলিতে। আর ৪ নির্যাতনে মৃত্যু বরণ করন।

মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশের অন্যতম বেসরকারি সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র এই তথ্য জানিয়েছে। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র বা আসক।

এতো বন্ধুত্বের পরও দুই দেশের সীমান্তকে রক্তপাতমুক্ত করা যাচ্ছে না কিছুতেই৷ আর সবক্ষেত্রে ভিকটিম বাংলাদেশি নাগরিক৷ গত একদশকে সীমান্তে ২৯৪ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ।

জেলা সভাপতি শিব্বির আহমাদ আরো বলেন, সীমান্তে নির্দয়ভাবে বাংলাদেশী হত্যা এটা এদেশের মানুষ কখনোই বরদাস্ত করবে না। আমরা দেখেছি ২০১১ সালে বিএসএফের গুলিতে নিহত ফেলানী খাতুন, ২০১৬ সালের মে মাসে চুয়াডাঙ্গার নতুনপাড়া সীমান্তে কিশোর শিহাব উদ্দিন এবং ২০১৯ সালে ১০ মে সাতক্ষীরার কুশখালী সীমান্তের কাছে কবিরুল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছে। ফেলানী খাতুন হত্যাসহ সীমান্তে বিভিন্ন হত্যা ও নির্যাতনের একটিরও বিচার হয়নি। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে নিজ দেশের নাগরিক হত্যা নিয়ে বাংলাদেশের জোরালোভাবে প্রতিবাদ জানানো উচিত ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার সীমান্ত হত্যা ইস্যুতে নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। আজকের এই মানববন্ধন থেকে বলতে চাই সীমান্ত হত্যা ইস্যুতে যদি বাংলাদেশ সরকার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করে নীরব ভূমিকা পালন করে তাহলে এদেশের মানুষ আর সরকারের পদক্ষেপের আশায় বসে থাকবে না। ১৯৭১ সালে নিজেদের অধিকার ও ভূখণ্ড আদায়ের জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেভাবে যুদ্ধ করেছিলাম স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর এসে নিজেদের সীমান্ত রক্ষার জন্য প্রয়োজনে ভারতের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করবো ইনশাআল্লাহ। তবুও বাংলাদেশের সীমান্তে কোনো শকুনের নজর পড়তে দিবো না।

উক্ত মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন, ইশা ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আনোয়ার হোসেনসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

বার্তা প্রেরক
মুহাম্মাদ আবু বকর
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন
নারায়ণগঞ্জ জেলা।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে