মুফতী মুহাম্মদ নোমান কাসেমী একজন আলেম, একজন সমাজ সেবক

0


আওয়ার টাইমস নিউজ ডেস্ক।
বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপূর্ণ দেশ। এ দেশের মানুষ বিভিন্ন সময়ে কঠিনতর দুর্যোগের সম্মুখিন হয়। বন্যা, তুফান, শীত বা এজাতীয় আরো অনেক সমস্যা এদেশে প্রায় সময় দেখা যায়। এ বছর (২০২২ সালে) সিলেট বিভাগে স্মরণকালের বিপদময় বন্যার কথা সারা বিশ্ব জানে। এ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বহু মানুষ। মানুষের ফসলি সম্পদ, গবাদি পশু, ঘরের জরুরী আসবাবসহ বহু সরঞ্জাম পানিতে ভেসে গিয়ে বা তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। মানুষ মাথা গোঁজার জন্য সামান্য এক টুকরো শুকনো জমীন তালাশ করেছে। খাদ্য ও পানির অভাবে মানুষ হাহাকার করেছে। দেশ বিদেশের বিভিন্ন সংস্থা, বা ব্যক্তি বিশেষের তত্বাবধানে তাদের জন্য ত্রাণ নিয়ে ছুটে গিয়েছে।

এবারের সিলেটে ত্রাণ বিতরণে উলামায়ে কেরামের অংশগ্রহণ ছিলো চোখে পড়ার মতো। উলামায়ে কেরাম হলেন প্রকৃত সমাজ সেবক। তাঁরা ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমে যেভাবে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। সেভাবে শিক্ষা ও সেবামূলক কাজেও অংশ নেন। মুফতী মুহাম্মদ নোমান কাসেমী তাদের অন্যতম। তিনি সেবা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ইমাম আবু হানীফা রহ. ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। বিগত ২০১৬ সালে মাদানীনগর সানারপাড় সিদ্ধিরগঞ্জ নারায়নগঞ্জে এ ফাউন্ডেশনটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এর তত্বাবধানে দেশে বিভিন্ন সেবা মূলক কাজ করে যাচ্ছে। ইতোপূর্বে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দশ হাজার পিছ হাতপাখাসহ জরুরী অনেক সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে বেশ কয়েকবার শীতবস্ত্র ও চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

মুফতী মুহাম্মদ নোমান কাসেমী নিজেই বাজার করে টিমের সদস্যদের নিয়ে সুনামগঞ্জের দুর্গম এলাকার ঘরে ঘরে জরুরী ত্রাণসামগ্রী, খাদ্য, ওষুধ, বিপদকালীন প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য মোট ২১টি পদ একত্র করে তাহিরপুরের বিন্দাবন্ধ, বড়দল প্রভৃতি দুর্গম এলাকায় মানুষের হাতে পৌছে দিয়েছেন।

গত দুই মাসে সুনামগঞ্জ সদর, তাহিরপুর, ও দোয়ারাবাজার এলাকায় ৮২ জন অসহায় মানুষের পুনর্বাসনের ঘর প্রস্তুত করা হয়েছে। ঘরগুলোতে উন্নতমানের টিন, পিলার, বাঁশ, কাঠ, লোহা ইত্যাদি ত্রাণসামগ্রী ব্যবহৃত হয়েছে। প্রতিটি ঘরে ৪৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
‘ইমাম আবু হানীফা ফাউন্ডেশন’ বর্তমানে আল-মারকাযুল হানাফী বাংলাদেশের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুপেয় পানির ১ হাজার টিউবওয়েল স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে এ সংস্থার পথচলা। ইতোমধ্যে ১৩টি টিউবওয়েল স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। গত ৭ বছরে দুরারোগ্যকালীন সময়ে সংস্থাটির পরিচালক ও স্বেচ্ছাসেবী সদস্যবৃন্দ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে মানুষের সেবা করে যাচ্ছে। সংস্থাটি করোনাকালীন সময়ে নিম্নবিত্ত পরিবারের পাশে দাড়ানোসহ বিভিন্ন সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে মানুষের পাশে আছে।

বর্তমানে পুনর্বাসন কাজের পাশাপাশি স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ, নগদ অর্থ সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণের কার্যক্রম স্বল্প পরিসরে চলমান আছে। গরীব পরিবারের মেয়েদের বিবাহ দেয়া, অসহায় রোগীদের চিকিৎসা, অবহেলিত পথশিশুদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করাও এ ফাউন্ডেশনের কাজের অংশ।
উল্লেখ্য, সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, সহ-পরিচালকসহ সকল সদস্য ও সীমিত সংখ্যক শুভাকাঙ্ক্ষীদের ব্যক্তিগত আর্থিক অনুদানে এ সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে