সংসার জীবনে নারীরা বিষণ্নতায় ভোগেন কেন।

0

আওয়ার টাইমস নিউজ।

নারীরা সেই আদিকাল থেকেই- ঘরে বাইরে এমনকি সমাজের কাছেও আজ পর্যন্ত অবহেলিত। মানুষের মনোভাব ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া কোন কিছুই বাইরে থেকে দেখা যায় না। শুধু নিজে নিজে অনুভব করা যায়। তাই হয়তো নারীদের ভালো থাকা সম্ভব হয় না। ধনী কিংবা গরীব বেশিরভাগ নারীকেই সংসারের সমস্ত প্রয়োজন মিটিয়ে তারপর নিজের কথা ভাবতে হয়। যেমন ধরুন খাবারের সময় সবাইকে খাইয়ে অবশিষ্ট যা থাকে অভিযোগ বিহীন তাই নারীরা খায়। কী খেতে ভালবাসে তা খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনা কেউই। এই পরিস্থিতিতে নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভাবা নারীর পক্ষে অনেক কঠিন।

সুস্থ্যতা বলতে আমরা শুধু শারীরিক সুস্থতার কথা বুঝাই। কিন্তু সুস্থ্য তো তখনই থাকা যায়, যখন শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকবে। পৃথিবীর উন্নত মানের বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশগুলোতে মানুষের শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক অবস্থাকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে পুরুষের মানসিক অবস্থাকে খানিকটা গুরুত্ব দেয়া হলেও নারীদের ক্ষেত্রে একেবারেই তা গুরুত্বহীন।

নারীর মনের কষ্ট, দুঃখ, বেদনা যতই তীব্রই হোক না কেন, তাকে সংসারের সব কাজ সময়মতো ঠিকঠাক করে করতে হয়। সকলের মন জয় করে চলতে হয়। অথচ বেলাশেষে নারীর মনের অনুভূতি কিংবা কষ্ট বুঝার মতো কাউকেই পাশে পায় না। শুধু তাই নয়! আমাদের দেশের অধিকাংশ স্বামীরাও তাদের স্ত্রীর মনের ইচ্ছে-অনিচ্ছের প্রতি যত্নশীল না। এমনকি স্ত্রীর দুঃখ কষ্টের কথা জানতেও চায় না। বরং যদি কখনো নারীরা বুকভরা যন্ত্রনা নিয়ে স্বামীর কাছে নিজের কষ্টের কথা বলে। স্বামীর উত্তর হয়, নারীরা কথায় কথায় শুধু কাঁদে। তুমি একটু বেশিই করো। আমি ক্লান্ত, বাহিরে থেকে কাজ করে এসেছি, তোমার এসব কথা শুনতে ভালো লাগছে না। আর সবসময় নারীরা এসব অবহেলা সহ্য করতে করতে একসময় নিজেই চুপ হয়ে যায়। এমনকি নিজের শারীরিক সুস্থতার কথাও কাউকে বলে না। আর এসব কষ্টগুলো মনের মধ্যে লুকিয়ে রাখতে রাখতে একসময় তাঁরা বিষন্নতায় ভোগেন।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে