আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে সংঘটিত ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেনভিত্তিক আনসারুল্লাহ আন্দোলন। সংগঠনটির রাজনৈতিক দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ তোলা হয়।
আনসারুল্লাহ জানায়, ইসলামাবাদের খাদিজা কুবরা (সা.) মসজিদে সংঘটিত এই হামলা কেবল একটি সন্ত্রাসী ঘটনা নয়, বরং মুসলিম বিশ্বের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টির একটি পরিকল্পিত অংশ। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তাকফিরি ও চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে মুসলিম সমাজে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দিতে চায়।
হামলায় অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই হামলার দায় ইতোমধ্যে ইসলামিক স্টেট (আইএস) স্বীকার করলেও, আনসারুল্লাহ বলছে, এই ধরনের সংগঠনগুলো কার্যত বৃহৎ শক্তির পরোক্ষ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সংগঠনটির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মুসলিম উম্মাহ যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না পারে, সে লক্ষ্যেই পবিত্র স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক হামলাকে তারা গভীর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।