আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আলোচনায় এসেছেন রুমিন ফারহানা। ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থীকে ৩৮ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।
নির্বাচনী ফল অনুযায়ী, রুমিন ফারহানা পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব ‘খেজুর গাছ’ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন তিনি। এ সময় কোলে হাঁস নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে আসা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপি থেকে বের হয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং জয় পাওয়া তার জন্য সহজ ছিল না।
রুমিন ফারহানা বলেন, তার চেয়ে বেশি কষ্ট করেছেন তার নেতাকর্মীরা। দীর্ঘদিন ধরে তারা নানা চাপ ও বাধার মধ্যেও পাশে থেকেছেন। জয় না এলে তাকে আবার ঢাকায় ফিরে পেশাগত জীবনে ফিরে যেতে হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের দিন দুপুরের পর কিছু এলাকায় জাল ভোট ও ফলাফল আটকে রাখার চেষ্টা হয়েছে। তিনি নিজে কয়েকটি কেন্দ্রে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন বলেও দাবি করেন। জালিয়াপাড়া কেন্দ্রে সংঘর্ষের মুখে পড়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি কোনো দলের প্রার্থী নন। ভবিষ্যতে রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে কাজ করাই তার একমাত্র পথ। এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর অঙ্গীকার করেন তিনি।
হাঁস প্রতীক বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই হাঁস-মুরগির সঙ্গে তার স্মৃতি ও অভ্যাস জড়িয়ে আছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এখনো তার অবসর সময় কাটে এসব প্রাণীর সঙ্গেই। সেই আবেগ থেকেই হাঁসকে প্রতীক হিসেবে বেছে নেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন রুমিন ফারহানা। এর আগে তিনি একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপি যদি তাকে ফিরিয়ে নিতে চায়, তাহলে তার সঙ্গে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদেরও ফিরিয়ে নিতে হবে।