আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: শবেবরাত, বা লাইলাতুল বরাত, মুসলিমদের জন্য এক অত্যন্ত মহিমান্বিত রাত। হিজরি শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী রাতটি বিশেষভাবে আল্লাহর দয়া ও রহমতের রাত হিসেবে পরিচিত। এই রাতে মুসলমানরা নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত ও বিশেষ দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন।
তবে শুধুমাত্র এই এক রাতের ইবাদত দিয়ে সকল গুনাহ মাফ হবে এমন ধারণা সঠিক নয়। শবেবরাতেও কিছু মানুষ আল্লাহর ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থাকবেন।
কে থাকবে ক্ষমা থেকে বঞ্চিত?
১. মুশরিক – যারা জীবনে শিরক করে, অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য মনে করে বা আল্লাহর কর্তৃত্বে অংশীদার রাখে।
২. মুশাহিন – যারা হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণ করে।
বিখ্যাত সাহাবি মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
অর্ধ-শাবানের রাতে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টি দ্বারা দয়া ও রহমতের দৃষ্টি দেন, মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করেন।
(সহিহ ইবনে হিব্বান : ৫৬৬৫)
শিরক ও হিংসার মারাত্মকতা
ইসলামে শিরক সর্বোচ্চ গুনাহ। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য মনে করা বা তাঁর ক্ষমতায় অংশীদার ধরা মারাত্মক অপরাধ। একইভাবে হিংসা ও বিদ্বেষ মানুষের নেক আমল ধ্বংস করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“হিংসা থেকে দূরে থাকো। হিংসা নেক আমলকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে, যেমন আগুন লাকড়িকে ভস্ম করে দেয়।”
(সুনানে আবু দাউদ)
শবেবরাতের প্রকৃত তাৎপর্য
শবেবরাত কোনো ভাগ্য নির্ধারণের রাত নয়। ভাগ্যরজনী হলো লাইলাতুল কদর। শবেবরাত হলো আল্লাহর বিশেষ রহমতের রাত। ধারাবাহিক ইবাদতকারীর জন্য এটি বরকতময়, তবে যারা আন্তরিকভাবে তওবা করে, নতুনভাবে আল্লাহর পথে ফিরে আসে, তারাও এই রাতে সৌভাগ্যবান হতে পারেন।