ওমানের বিপক্ষে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ! দায় এড়াতে পারবেনা বাফুফেও।

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ কাতার ২০২২” ও “এএফসি এশিয়ান কাপ চায়না ২০২৩ (প্রিলিমিনারি জয়েন্ট রাউন্ড -২)” শক্তিশালী ওমান বিপক্ষে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার রাত বাংলাদেশ সময় ১১টা ১০ মিনিটে ম্যাচটি কাতারের জসিম বিন হামাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। এ ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের বিপক্ষে শক্তিশালী ওমান আক্রমনাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ওমানের দূর্দন্ত পাসিং ফুটবলে বাংলাদেশকে খুব অসহায় দেখা যায়! বাংলাদেশ দল ৫০ সেকেন্ড ও নিজেদের পায়ে বল রাখতে পারিনি, একসাথে ৩ টারও বেশি পাস খেলতে দেখা যায়নি জেমি ডের শিষ্যদের।

এদিকে ম্যাচের ঠিক ২২ মিনিটের মাথায় ওমানের মোহাম্মদ আল গাফরির গোলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ওমান দল। এরপরে ওমান দলকে প্রথমার্ধে আর কোন গোল করতে দেয়নি বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধের ৬১ মিনিটে ওমানের খালিদ আল হাজরীর দুর্দান্ত এক শটে পরাস্ত হন বাংলাদেশি গোলকিপার জিকু। ফলে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় ওমান। ম্যাচের ঠিক ৮১ মিনিটের মাথায় খালিদ আল হাজরীর বুলেট গতির একটি কিক বাংলাদেশের জাল কাঁপিয়ে দিলে ৩-০ গোলে বড় হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে মাত্র ৫০ সেকেন্ড সময় বল পায়ে রাখতে না পারা বাংলাদেশ ।

আশ্চর্যের বিষয় হলো নেপালের মতো দল যদি শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একসাথে ৬-৭ টা ৫ খেলতে পারে তাহলে বাংলাদেশের ফুটবলাররা কেন তা পারেনা। তাহলে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে বাংলাদেশের অবস্থান কতটা তলানিতে। যে দলটি একসাথে দুই থেকে তিনটা পাঁচ খেলতে পারেনা, মাত্র ৫০ সেকেন্ড নিজেদের পায়ে বল রাখতে পারেনা সেই দলটি নিয়ে কিভাবে জয়ের স্বপ্ন দেখবে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের ফুটবল প্রেমীদের জোরালো দাবি উঠেছে, বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত অনেক ভালমানের ফুটবলার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের উচিত বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত এসব হাইপ্রোফাইল প্লেয়ার কে বাংলাদেশ দলে আমন্ত্রণ করে জাতীয় ফুটবল দল গঠন করা। সমর্থকদের দাবি এতে করে বাংলাদেশ দল এশিয়ার মধ্যে শক্তিশালী একটি দল হিসেবে আবির্ভূত হবে কোন সন্দেহ নাই। তবে দুঃখের বিষয় হল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লিস্টার সিটি ক্লাবের অন্যতম প্লেয়ার হামজা চৌধুরি বলেছেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন থেকে তাকে কখনো বাংলাদেশের হয়ে খেলতে সামান্য আমন্ত্রণ টুকু জানায়নি। তাহলে কিভাবে বাংলাদেশের ফুটবল এগোবে। আরো লজ্জাজনক ও দুঃখের বিষয় হল, যেখানে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান দল, বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার ম্যাচের প্রস্তুতি হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলে প্রস্তুতি নেয় সেখানে বাংলাদেশ দল দেশীয় ক্লাব শেখ জামালের সাথে ম্যাচ খেলে প্রস্তুতি নেয়। সেটা কতটা হাস্যকর হতে পারে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশ দলের হেড কোচ জেমি ডে অবশ্য এই প্রস্তুতির ব্যাপারে সন্তুষ্ট ছিল না। এর আগেও বাংলাদেশের বহু কোচের একই অভিযোগ ছিল, বড় ম্যাচ খেলার আগে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বাংলাদেশ দলকে ভালো মানের প্রস্তুতি নেওয়ার ব্যাপারে চরম উদাসীন। তাহলে প্রশ্ন এসেই যায়, ফুটবলারদের অক্ষমতা নাকি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের দায়িত্বহীনতা।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে