মেসির ম্যাজিকে গ্রানাডার বিপক্ষে বার্সেলোনার অবিশ্বাস্য জয়!

0

নিজস্ব ক্রীড়া প্রতিবেদক।
আওয়ার টাইমস্ নিউজ: স্পানিশ কোপা দেল রের কোয়ার্টার ফাইনালে গ্রানাডার বিপক্ষে ৮৭ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও লিওনেল মেসির কল্যাণে আঁতোয়ান গ্রিজম্যান এবং জর্ডি আলবার জোড়া গোল ও ফ্রাঙ্কি ডি ইয়ং এর এক গোলে গ্রানাডার বিপক্ষে ৫-৩ গোলের অভূতপূর্ব, অবিশ্বাস্য শ্বাসরুদ্ধকর এক জয়ে কোপা দেল রে’র সেমিফাইনালে চলে গেল বার্সেলোনা!

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি লিওনেল মেসির কল্যাণে এই ৫ টি গোল করতে মাত্র ১৮ মিনিট সময় নিয়েছে গ্রিজম্যান, জর্ডি আলবা, ফ্রাঙ্কি ডি ইয়ংরা। সেই সাথে পেশাদার ক্যারিয়ারে ৩০০ তম অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়েছেন রেকর্ড ছয়বারের ব্যালন ডি’অরজয়ী আর্জেন্টিনা ও বার্সেলোনার কিংবদন্তি ফুটবল রাজপুত্র লিওনেল মেসি।

গতকাল বুধবার রাতে স্পানিশ কোপা দেল রের কোয়ার্টার ফাইনালে গ্রানাডার বিপক্ষে ৮৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল মেসি-গ্রিজমানরা। বাকি সময়ে ২ গোল করে ম্যাচ সমতা ফেরায় তারা। এরপর অতিরিক্ত সময়ে তিন গোল করে -৫-৩ গোলের ব্যবধানে গ্রানাডাকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে রোনাল্ড কোম্যানের শিষ্যরা।

বার্সার এমন জয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক ম্যাচটাকেই মনে করিয়ে দেয়। যদিও সে সময় আর এ সময়ের মধ্যে বিস্তর তফাৎ। সে সময় মেসি,নেইমার, সুয়ারেজের দল ছিলো আগুনের মতো। তবে, এ ম্যাচটা দেখে কেউ কেউ বলেও বসতে পারেন, এতদিন সুপ্ত আগ্নেয়গিরি হয়ে ছিলেন গ্রিজম্যান-রিকি পুইগরাও।

প্রতিপক্ষের জালে ৫ গোল দিয়েছে বার্সেলোনা। পুরো ১২০ মিনিট মাঠে থেকেও গোল পাননি মেসি। তারপরও বার্সা ম্যাজিশিয়ান টেন অন টেন। দুই অ্যাসিস্ট, অন টার্গেট শর্ট ৭ টা, ৮৩.৩ শতাংশ নিখুঁত পাস। কি ছিল না মেসির এদিন!

পুরো ম্যাচে কাতালানদের ৩৬ শর্টের ২০-টিই অন টার্গেট। কিন্তু, গোলের ধাঁধা মেলাতে কাঠখড় পোড়াতে হলো অনেক। একবার মেসি, আরেকবার ত্রিনকাওয়ের শর্টে বল বার পোস্টে লেগে ফিরে এসেছে।

কোম্যান বাহিনীর এমন মুহুর্মুহু আক্রমণ সামলাতে হাঁপিয়ে ওঠে গ্রানাডার রক্ষণভাগ। কিন্তু ৩৩ আর ৪৭ মিনিটে দুই অন শর্টে দুই গোল আদায় করে নিয়েছিলো গ্রানাডার ফরোয়ার্ডরা। সেমির স্বপ্ন সত্যি হতে তাদের বাকি ছিলো মাত্র কয়েকটা মিনিট। তারপরও বার্সেলোনাকে বধ করতে পারল না গ্রানাডা।

গ্রানাডা ঘরের মাঠে কেনেডির গোলে ৩৩ মিনিটে এগিয়ে যায়। প্রথমার্ধে এই একটি গোলই হয়। বিরতির পর ৪৭ মিনিটে রবার্তো সোলদাদো গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। গ্রানডা ৮৭ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। সবাই তো এক প্রকার ধরেই নিয়েছিল বার্সেলোনাকে হারিয়ে কোপা দেল রের সেমিফাইনালে যাচ্ছে গ্রানাডা।

টিভির সামনে বসা যে বার্সেলোনা সমর্থকরা হতাশায় চ্যানেল বদলে ফেলতে চেয়েছিলেন, তাদের মুখে হাসি ফোটান আঁতোয়ান গ্রিজম্যান। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্টে থেকে গ্রিজম্যান গোলে শুরু হয় নাটকীয় অধ্যায়ের। যোগ হওয়া সময়ের ৯০+২ মিনিটেই জর্ডি আলবার গোলে বার্সা সমতায় আসে।

ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০০ মিনিটে আবারও স্পটলাইটে গ্রিজম্যান, তার গোলে বার্সার স্কোরলাইন ৩-২।

তবে ৩ মিনিট বাদেই পেনাল্টি থেকে আবারও সমতায় ফেরে গ্রানাডা। তবে এগিয়ে যেতে খুব বেশি সময় নেয়নি বার্সেলোনাও। ৫ মিনিটের ব্যবধানে বার্সার স্কোর শিটকে ৪-৩ করে ফেলেন ফ্র্যাঙ্কি ডি ইয়ং।

হুট করেই যেন গোলের নেশায় পেয়ে বসে কাতালানদের। ১১৩ মিনিটে জর্ডি আলবার গোলে ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। হাসিমুখে গোলের কারিগর গ্রিজম্যানকে সাধুবাদ জানান স্প্যানিশ লেফটব্যাক।

গ্রানাডায় ম্যান অব দ্য নাইট হয়েছেন গ্রিজম্যানই। তাইতো ম্যাচ শেষে নিশ্চয়ই পিঠ চাপড়ে দিতে কার্পণ্য করেননি কোচ কোম্যানও। ক্যারিয়ারে তিনশ’তম অ্যাসিস্টের রেকর্ডটি ও গড়েছেন লিওনেল মেসি।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে