আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে কোনো অবস্থাতেই সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও মর্যাদা রক্ষা করাই বিএনপির অবস্থান।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত সেনা সদস্যদের পরিবার ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, সেনাবাহিনীর গৌরব ফিরিয়ে আনার বিষয়টি শুধু বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। গৌরব অর্জন এবং তা ধরে রাখার জন্য সেনাবাহিনীর পেশাদার ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সেনাসদস্যদের রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী রাজনীতির অংশ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের প্রতীক।
তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীর সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ড বিএনপি অতীতে করেনি, বর্তমানে করছে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তার মতে, রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী বিএনপি মানেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আরও সুদৃঢ় হওয়া।
পিলখানা হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ওই দিনের ঘটনা ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। অথচ দিনটির যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে ওই দিনকে শহীদ সেনা দিবস, সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস অথবা জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক কাজে যুক্ত করা হলে তাদের মূল দায়িত্ব ব্যাহত হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গত দেড় দশকের অভিজ্ঞতা থেকে সেনা সদস্যদের নিজেদের বিবেক দিয়ে মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।
এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, সেনাবাহিনীর কিছু বিধিমালা সংস্কারসহ অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের দেওয়া বিভিন্ন সুপারিশের বিষয়ে তিনি বলেন, জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটির সুপারিশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।