আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রীর জন্য অত্যাধুনিক বাংকার ও গোপন সুড়ঙ্গসহ স্থায়ী বাসভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর জন্য প্রস্তাবিত এই আবাসনকে ঘিরে নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আধুনিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের বাসভবনের নকশা অনুসরণ করে এই প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য উন্নত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের আবাসনে যেসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে, সেগুলোর আদলেই পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে ভূগর্ভস্থ বাংকার এবং সংযুক্ত সুড়ঙ্গপথ।
এই ধরনের কাঠামোর মূল উদ্দেশ্য হলো যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা। যুদ্ধাবস্থা, সন্ত্রাসী হামলা, বা বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির সময় বিশ্বের অনেক দেশের সরকারপ্রধানরা তাদের পরিবারসহ এমন বাংকার বা সুড়ঙ্গপথ ব্যবহার করে নিরাপদ স্থানে চলে যান। কোথাও কোথাও এসব সুড়ঙ্গ সরাসরি নিরাপদ স্থাপনা বা বিকল্প অবস্থানে সংযুক্ত থাকে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতাও এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিগত সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা এবং আকস্মিক পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই সরকার এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে চাইছে। রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন বাসভবন নির্মাণের জন্য রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যেমন মিন্টো রোড, হেয়ার রোড বা বেইলী রোড বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সচিবালয়, সংসদ ভবন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করাই স্থান নির্বাচনের প্রধান শর্ত হিসেবে ধরা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাসভবনের নিচে নির্মিত বাংকার হবে উচ্চমানের সুরক্ষাবেষ্টিত। এতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন ব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে বিস্ফোরণ, হামলা বা অন্য কোনো ঝুঁকির মধ্যেও নিরাপদে অবস্থান করা যায়। পাশাপাশি সুড়ঙ্গপথ এমনভাবে তৈরি করা হবে, যা প্রয়োজনে দ্রুত স্থান ত্যাগ বা বিকল্প নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সুযোগ দেবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি শুধু একটি আবাসন প্রকল্প নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা কাঠামো। এখানে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয় করা হবে।
সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবনকে ঘিরে এই উদ্যোগকে দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে বৈশ্বিক বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা হচ্ছে।