আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের গাজিয়াবাদে একই পরিবারের তিন কিশোরীর একসঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নয় তলা ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে প্রাণ হারানো এই তিন কিশোরী বোনের মৃত্যুকে ঘিরে দিন যত গড়াচ্ছে, ততই সামনে আসছে ভয়ংকর ও রহস্যময় তথ্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত তিন কিশোরীর বাবা চেতন কুমারের অতীত জীবনও নানা বিতর্কে ঘেরা। ২০১৫ সালে তার লিভ ইন পার্টনারের আত্মহত্যার ঘটনায় চেতনের নাম উঠে এসেছিল তদন্তে। যদিও সে সময় পুলিশ তদন্ত শেষে ওই মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলেই নিশ্চিত করেছিল। তবে বর্তমান ঘটনার সঙ্গে সেই পুরোনো ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, চেতনের ব্যক্তিগত জীবন ছিল জটিল। তিনি তিনজন নারীকে বিয়ে করেছিলেন এবং তারা তিনজনই সম্পর্কে আপন বোন। সম্প্রতি আত্মহত্যা করা তিন কিশোরীর মধ্যে একজন ছিলেন এক বোনের সন্তান এবং বাকি দুইজন অন্য বোনের সন্তান। এমন পারিবারিক কাঠামোও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, চেতন কুমার একজন ব্যবসায়ী হলেও দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন। দেনা পরিশোধের চাপ এতটাই বেড়ে যায় যে, বিদ্যুৎ বিল মেটানোর জন্য তিনি তার তিন মেয়ের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বিক্রি করে দেন। অথচ এই তিন কিশোরী কোরিয়ান ড্রামায় ভীষণভাবে আসক্ত ছিল এবং মোবাইল ফোনেই নিয়মিত সেগুলো দেখত।
ঘটনার দিন অর্থাৎ ৪ ফেব্রুয়ারি, তিন কিশোরী মায়ের কাছে মোবাইল ফোন চেয়েছিল। কিন্তু সেই ফোনে তারা পছন্দের কোনো কোরিয়ান ড্রামা দেখতে পায়নি বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। প্রশ্ন উঠছে, মোবাইল কেড়ে নেওয়ার ঘটনাই কি তাদের এমন চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো কারণ।
পুলিশের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ওই তিন কিশোরীর সঙ্গে তাদের মায়েদের সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। বরং তারা বাবার সঙ্গেই বেশি ঘনিষ্ঠ ছিল। এমন পারিবারিক টানাপোড়েন, আর্থিক চাপ ও মানসিক অস্থিরতার সমন্বয়েই কি এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
বর্তমানে পুরো ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং পারিবারিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে খুব শিগগিরই এই তিন কিশোরীর মৃত্যুর পেছনের ভয়ংকর রহস্যের পর্দা উঠে আসতে পারে।