আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন এক সংকটময় পর্যায়ে পৌঁছেছে। সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় ইরান আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজধানী তেহরানের উপকণ্ঠে ব্যাপক পরিসরে কবর খননের উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের বৃহত্তম কবরস্থান এলাকায় এই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হলে যে কোনো জরুরি অবস্থার মোকাবিলায় এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ না করে এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দমনে কঠোর অবস্থান বজায় রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প পথ বিবেচনা করতে বাধ্য হবে।
এর মধ্যেই মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী স্ট্রাইক গ্রুপ, যার মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী রয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চায় না, তবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরান আবারও জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, হুমকি ও চাপের পরিবেশে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়, তবে ন্যায়সঙ্গত ও সমতাভিত্তিক সংলাপের পথ ইরান বন্ধ করেনি।
সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইরান সম্প্রতি তাদের বাহিনীতে নতুন কৌশলগত ড্রোন যুক্ত করেছে বলেও জানা গেছে। একই সময়ে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকি, সামরিক অবস্থান শক্ত করা এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।