আওয়ার টাইমস নিউজ।
স্পোর্টস ডেস্ক: ক্রিকেট ইতিহাসে কখনো কখনো ছোট একটি বার্তাই বড় বিস্ময়ের জন্ম দেয়। ভারতীয় ব্যাটিং প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশীর ক্ষেত্রে ঠিক সেটাই ঘটেছে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে কোচের পাঠানো একটি সংক্ষিপ্ত হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাই যেন তাকে নিয়ে যায় ইতিহাসের পাতায়।
সেমিফাইনাল জয়ের পর ভারতের কোচ মানিশ ওঝা সূর্যবংশীকে একটি ছোট্ট বার্তা পাঠান। সেখানে লেখা ছিল, তিনি ভালো খেলছেন, কিন্তু এখনো বড় ইনিংসটি আসেনি। কোনো চাপ নয়, বরং নিজের সামর্থ্যের কথা মনে করিয়ে দেওয়াই ছিল সেই বার্তার মূল উদ্দেশ্য। জবাবে সূর্যবংশী সংক্ষেপে উত্তর দেন, জি স্যার।
এরপর ফাইনালের মঞ্চে ঘটে অবিশ্বাস্য ঘটনা। জিম্বাবুয়ের হারারেতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সূর্যবংশী খেলেন ১৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৫টি চার ও ১৫টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংস ক্রিকেটবিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়।
এই ইনিংসের ওপর ভর করে ভারত তোলে ৪১১ রানের বিশাল সংগ্রহ। জবাবে ইংল্যান্ড ৩১১ রানে অলআউট হয়ে গেলে ১০০ রানের জয় নিয়ে ভারত জিতে নেয় তাদের ষষ্ঠ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ শিরোপা।
ইনিংসের শুরুতে ধৈর্য ধরে খেলেন সূর্যবংশী। নতুন বল সামলে পরিস্থিতি বুঝে নেন তিনি। কিন্তু সেট হয়ে যাওয়ার পর পেস কিংবা স্পিন, কোনো বোলারই তাকে আটকাতে পারেননি। ৫৫ বলে শতক পূর্ণ করার পরের ২৫ বলেই তিনি যোগ করেন আরও ৭৫ রান।
ডাবল সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত ১৭৫ রানেই থামতে হয় তাকে। ম্যাচ শেষে কোচ মানিশ ওঝা বলেন, সূর্যবংশীর এই ইনিংস তার মানসিক পরিপক্বতার বড় প্রমাণ।
পুরো টুর্নামেন্টে সাত ম্যাচে ৪৩৯ রান করে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকদের একজন হন সূর্যবংশী। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই একের পর এক রেকর্ড ভেঙে দেওয়া এই ব্যাটারকে ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠছে, অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় পেরিয়ে এবার কি তবে সিনিয়র জাতীয় দলে ডাক আসছে।