আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক সম্পাদকীয় কলাম: হুসাইন আল আজাদ
ভেনেজুয়েলার সার্বভৌম ভূখণ্ডে মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক বর্বরোচিত বিমান হামলায় ৪০ জন নিরীহ মানুষের প্রাণহানি কেবল একটি সামরিক পরিসংখ্যান নয়; এটি আধুনিক সভ্যতার কপালে এক কলঙ্কজনক তিলক। এই হত্যাকাণ্ড এবং সমান্তরালভাবে ফিলিস্তিনের মাটিতে ইসরায়েলি হা/য়ে/নাদের পৈ/শাচিকতা প্রমাণ করে যে, বিশ্ব আজ এক ভয়াবহ ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’ নেতৃত্বের কবলে পড়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রধান মিত্র ইসরায়েলের এই অশুভ আঁতাত আজ মানবতার জন্য যমদূত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১. ভেনেজুয়েলা: তেলের নেশায় মত্ত এক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ
ভেনেজুয়েলার অপরাধ কী? তাদের একমাত্র অপরাধ তাদের মাটির নিচে থাকা বিশাল তেলের খনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ইতিহাস হলো-যেখানেই প্রাকৃতিক সম্পদ আছে, সেখানেই তারা ‘গণতন্ত্র’ রক্ষার দোহাই দিয়ে ঢুকে পড়ে এবং সম্পদ লুটে নেয়। কিন্তু এবার তারা সব সীমা অতিক্রম করেছে। কোন আন্তর্জাতিক আইন কিংবা জাতিসংঘের কোন রেজোলিউশন বলে তারা একটি স্বাধীন দেশের ওপর হামলা চালিয়ে ৪০ জন মানুষকে হত্যা করল?
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো একজন ‘সন্ত্রাসীদের গডফাদার’ যখন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে আটক করার মতো ধৃষ্টতা দেখান, তখন বুঝতে হবে আন্তর্জাতিক ডিপ্লোম্যাসি এখন আর ভদ্রলোকদের হাতে নেই। এটি নিছক রাজনীতি নয়, এটি একটি বিকারগ্রস্ত মানসিকতা যা মনে করে গায়ের জোরেই বিশ্ব শাসন করা সম্ভব।
২. ট্রাম্প ও ইসরায়েল: এক অশুভ ‘সাইকোপ্যাথিক’ জোট
বিশ্ব রাজনীতির বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, হোয়াইট হাউস এবং তেল আবিবের মধ্যে আজ কোনো পার্থক্য নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যক্ষ মদদ এবং উস্কানিতেই ইসরায়েলি খুনিরা আজ ফিলিস্তিনের শিশুদের ওপর মরণকামড় দিচ্ছে। ফিলিস্তিনের মাটিতে যে শিশুরা আজ ছিন্নভিন্ন হচ্ছে, যাদের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে-সেই প্রতিটি রক্তের ফোঁটার দায়ভার ট্রাম্প প্রশাসনের।
ইসরায়েলি হায়েনারা যে হিংস্রতা দেখাচ্ছে, তার নেপথ্যে রয়েছে মার্কিন ডলার এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র। এই দুই শক্তি এখন একটি ‘গ্লোবাল সিন্ডিকেট’ হিসেবে কাজ করছে। একদিকে তেলের নেশা, অন্যদিকে ভূমি দখলের ক্ষুধা-এই দুই মিলে তারা পৃথিবীকে একটি নরকে পরিণত করেছে। একে যদি মানসিক বিকারগ্রস্ততা না বলা হয়, তবে সভ্যতার সংজ্ঞা নতুন করে লিখতে হবে।
৩. আন্তর্জাতিক আইনের মৃত্যু ও জাতিসংঘের ব্যর্থতা
এই সম্পাদকীয়র মাধ্যমে আমরা বিশ্ব বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই-জাতিসংঘ কেন আজ কাঠের পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে আছে? কেন আন্তর্জাতিক আদালত এই দুই চিহ্নিত সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না? আইন কি তবে কেবল দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর জন্য?
ভেনেজুয়েলার আকাশ যখন মার্কিন বারুদে ভারী হয়ে ওঠে এবং গাজার আকাশ যখন শিশুদের কান্নায় প্রকম্পিত হয়, তখন আমরা বুঝি যে বিশ্বব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এই দুই সন্ত্রাসী শক্তি আজ আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করছে না, কারণ তারা জানে তাদের বিচার করার মতো সাহস বর্তমান বিশ্ব নেতৃত্বের নেই।
৪. সমগ্র বিশ্ববাসীকে কোনরকম অপেক্ষা না করে অবশ্যই জাগতে হবে, কারণ নীরবতা অপরাধের সমান। আজ যদি ভেনেজুয়েলার এই ৪০ জন তাজা প্রাণের রক্তের বিচার না হয় এবং ফিলিস্তিনের নিষ্পাপ শিশুদের খু'নি ই'স'রাইলি হা/য়/নাদের হাত না থামানো যায়, তবে আগামীকালের সূর্য আমাদের জন্য আরও বড় বিপর্যয় নিয়ে আসবে। এই ম/নু/ষ্যত্বহীন হা/য়ে/নাদের রুখতে বিশ্বের প্রতিটি শান্তিকামী রাষ্ট্র এবং বিশেষ করে মুসলিম উম্মাহকে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের উন্মাদনা আর ইসরায়েলিদের পৈশাচিকতাকে কেবল আলোচনার টেবিলে বসে থামানো যাবে না; প্রয়োজন আন্তর্জাতিক বয়কট, কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ এবং সম্মিলিত প্রতিরোধ। ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে, যখন পৃথিবী একদল উন্মাদ আর সন্ত্রাসীর কবলে পড়েছিল, তখন আমরা লড়েছিলাম নাকি হাত গুটিয়ে বসে ছিলাম। সময় এসেছে এই হায়েনাদের কবল থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করার। জয় হোক মানবতার, ধ্বংস হোক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের।