
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধনের আগেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রায় ১২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের দেয়াল ও প্লাস্টারের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এসব ফাটল ঢাকতে কোথাও পুরোনো প্লাস্টার কেটে নতুন করে সিমেন্ট ও প্লাস্টারের কাজ চলছে। উদ্বোধনের আগেই এমন সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় নির্মাণের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্প হলেও নির্মাণস্থলে প্রকল্প-সংক্রান্ত বাধ্যতামূলক তথ্যসম্বলিত সাইনবোর্ড নেই। ফলে ব্যয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, প্রকল্পের মেয়াদ ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার তথ্য সাধারণ মানুষের অজানা রয়ে গেছে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০১৯ সালে কোটালীপাড়ায় এ মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী ১৮ মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় সাত বছর পরও নির্মাণ শেষ হয়নি।
গণপূর্ত বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন জটিলতার কথা উল্লেখ করে কাজ ছেড়ে দেয়। পরে ২০২৩ সালে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও প্রকল্প শেষ হয়নি।
স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি, শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে প্রকল্পটি বারবার বিলম্বিত হয়েছে। তাদের ভাষ্য, উদ্বোধনের আগেই ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ায় ভবিষ্যতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবনের মূল কাঠামোতে কোনো সমস্যা নেই। ফাটলগুলো প্লাস্টারে হওয়ায় তা মেরামত করা সম্ভব। এছাড়া প্রায় তিন কোটি টাকার বিল বকেয়া থাকায় নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলছে। বকেয়া অর্থ পরিশোধ হলে দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে দাবি তাদের।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে গোপালগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম খান বলেছেন, সংশ্লিষ্টদের ফাটল মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।






























