
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বাহরাইনে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Reuters–এর অনুসন্ধানে ইঙ্গিত মিলেছে, ঘটনাটির জন্য শুরুতে যাকে দায়ী করা হচ্ছিল, বাস্তবে তার পেছনে ভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
গত ৯ মার্চ বাহরাইনের সিত্রা দ্বীপের মাহাজ্জা এলাকায় এই বিস্ফোরণে ৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হন এবং আশপাশের বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রথমদিকে এটি ইরানের ড্রোন হামলা বলে ধারণা করা হলেও তদন্তে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র।
বাহরাইন কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, বিস্ফোরণের সঙ্গে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র জড়িত ছিল। তাদের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র একটি ড্রোন প্রতিহত করতে ছোড়া হয়েছিল, যার ফলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তবে তদন্তে যুক্ত গবেষকরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করা একটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ থেকেই ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়। ভিডিওচিত্র ও স্যাটেলাইট বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশেই বিস্ফোরিত হয় এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই এর ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর ফলেই আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই বিশ্লেষণ সঠিক হয়ে থাকে, তবে এটি আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি ঝুঁকিপূর্ণ দিককে সামনে আনে। স্বল্পমূল্যের ড্রোন ঠেকাতে উচ্চক্ষমতার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে কখনো কখনো বেসামরিক মানুষের জন্য বড় ধরনের বিপদ তৈরি হতে পারে।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সূত্র: রয়টার্স





























