
আওয়ার টাইমস নিউজ
স্পোর্টস ডেস্ক: আর মাত্র ১ ঘণ্টা পরেই শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও বহুল প্রতীক্ষিত সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বিশ্ব কাঁপানো এই হাই ভোল্টেজ ফাইনাল ম্যাচটিকে ঘিরে এখন পুরো ফুটবল দুনিয়ায় টানটান উত্তেজনা। তবে এবারের ফাইনাল কেবল মাঠের ফুটবল শৈলী বা কৌশল দিয়ে বিচার করা যাচ্ছে না, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথের আড্ডায় এটি রূপ নিয়েছে এক নজিরবিহীন মনস্তাত্ত্বিক ও ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ে। ফুটবলপ্রেমীদের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন? আজ কার হাতে উঠবে স্বপ্নের সোনালী ট্রফি? ইসরাইলপ্রেমী হিসেবে সমালোচিত লিওনেল মেসি, নাকি ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানানো স্পেনের তরুণ মুসলিম তারকা লামিন ইয়ামাল?
বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এবারের ফাইনাল ম্যাচটি নিয়ে দর্শকদের মাঝে তৈরি হয়েছে এক ভিন্নধর্মী উন্মাদনা ও আবেগ। ফুটবল পাগল এই দেশে আর্জেন্টিনার কোটি কোটি অন্ধ সমর্থক থাকলেও, ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাদের একটি বড় অংশ আজ দ্বিধাবিভক্ত।
গাজার মজলুম ও নিষ্পাপ শিশুদের ওপর চলা নির্মম আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সবসময় সোচ্চার। এই পরিস্থিতিতে ফুটবলের মহাতারকা মেসির অতীতে বিভিন্ন সময়ে দেখানো ইসরাইলপন্থী অবস্থান ও প্রীতি অনেক ভক্তের হৃদয়কে ব্যথিত করেছে।
অন্যদিকে, ফুটবল বিশ্বে নতুন ধূমকেতু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা স্পেনের মুসলিম তরুণ লামিন ইয়ামাল এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর ফিলিস্তিনের পক্ষে অনড় অবস্থান বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের মন জয় করে নিয়েছে। মানবিক মূল্যবোধ ও ফিলিস্তিনের প্রতি ভালোবাসার টানে বাংলাদেশের বহু ফুটবল অনুরাগী, যারা হয়তো কখনোই স্পেনের সমর্থক ছিলেন না, তারাও আজ প্রকাশ্যেই ইয়ামালের স্পেনের পক্ষে গলা ফাটাচ্ছেন।
কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। আর মাত্র ৬০ মিনিট পর রেফারি যখন বাঁশিতে ফুঁ দেবেন, তখন সবুজ মাঠে যেমন বল গড়াবে, ঠিক তেমনি মাঠের বাইরেও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে চলবে এই মানবিক ও মনস্তাত্ত্বিক আবেগ। ট্রফি কার ঘরে যাবে, সেটা মাঠের পারফরম্যান্সই ঠিক করবে, তবে ট্রফি জয়ের লড়াই ছাপিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আজ বড় হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিনের প্রতি বিশ্বজনীন সংহতির এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।
সূত্র: আন্তর্জাতিক স্পোর্টস মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড।


























