
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: বিএনপি সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের অংশ হিসেবে ফেনীর মহিপালে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপিও তাদের মতো জনগণের জনরায় মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট থাকলেও সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, তাদের কোনো পিসির বাড়ি নেই। যারা সামান্য কালো মেঘ দেখলেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়, তাদের সবাই চেনেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে যারা তাদের চোখ রাঙাচ্ছেন, গত সাড়ে ১৫ বছর তাদের ক্ষমতা কোথায় ছিল। কালো মেঘের পাশাপাশি বজ্রপাত এলেও ১১ দলীয় ঐক্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে থাকবে বলে জানান তিনি।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান দ্রুত ছয় দফা দাবি মেনে নিয়ে সোজা পথে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণভোটের জনরায় মেনে নেওয়া এবং জুলাই গণহত্যা ও পিলখানায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তার হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদ গড়ে উঠেছে দাবি করে তিনি বলেন, এখনো সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। সময় পার হয়ে গেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সরকারকে সতর্ক করেন তিনি।
লংমার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আজকের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে লংমার্চ করা হবে এবং পরে ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি ফেনী ও বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষের প্রতি ওই মহাসমাবেশে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে প্রয়োজন হলে সঙ্গে চিড়া-মুড়ি নিয়েই সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উপস্থিত নেতাকর্মীদের চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, চূড়ান্ত ডাক এলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে এবং দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরতে হবে। জনতার বিজয় হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ফেনীর পথসভায় জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমেদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং এনসিপি নেতা আকতার হোসেন এমপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।


























