
আওয়ার টাইমস নিউজ।
সারাদেশ ডেস্ক: টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেতুটির একটি অংশে ঢালাইয়ের সময় রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
অভিযোগের বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে নির্মাণকাজের একটি অংশে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সেতুটি টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বাসাইল জিসি থেকে কাউলজানী ইউনিয়ন পরিষদ হয়ে মাইজখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কের ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ দশমিক ৬ মিটার।
প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে প্রকল্পের সময় বাড়ানো হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখনো কিছু কাজ বাকি রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগের একজন কর্মকর্তা নির্মাণকাজে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে এর পেছনে কার দায়িত্ব বা কী কারণে এমনটি হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, স্থায়ী কাঠামোর রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়নি; নির্মাণকাজের সহায়ক অংশে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।
তবে প্রকল্পের কারিগরি মান ও নির্ধারিত নকশা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয়। কোনো অংশে ত্রুটি পাওয়া গেলে সেটি সংশোধন বা পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কাজে যেন কোনো ধরনের অনিয়ম না থাকে, সে জন্য তারা সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

























