সর্বশেষ
বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন
দেশের সব মাদ্রাসায় ইআইআইএনভিত্তিক সিম সচল রাখার জরুরি নির্দেশ
মহাজাগতিক বিস্ময়: আজ পৃথিবীজুড়ে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান!
টাইফুন ‘দুজুয়ান’-এর প্রলয়ঙ্করি তাণ্ডবে চূর্ণ জাপান: লাশের সারি বেড়ে ৯, নিখোঁজ বহু!
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতকে মাত্র ৩২ রানে রুখে দিল জাপান, অতঃপর আম্পায়ারের নির্লজ্জ চু/রিতে কোনরকম রক্ষা পেল ভারত
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আজকের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?
জ্বালানির দাম বাড়তেই গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য, কোথাও ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি আদায়
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি না দেওয়া দেশগুলোকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান এরদোগানের
মার্কিন আধুনিক প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুরো বিশ্বকে চমকে দিল ইরান
পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করলে বাসে ককটেল হামলার রহস্য বের হবে: রাশেদ খান
বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী
তেলের দামে ওঠানামা, তবু বিশ্ববাজারে স্থির স্বর্ণের দাম
১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ, ঘটনাটি তদন্তে প্রশাসন
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?
৩ দাবি মানলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ্ বন্ধু কর্তৃক হ/ত্যার ভয়ং’কর লোমহর্ষক রহস্য উন্মোচিত হলো

Our Times News

আওয়ার টাইমস নিউজ।

নিউজ ডেস্ক: একটি মৃত্যু, অগণিত প্রশ্ন আর তিন দশকের দীর্ঘ অপেক্ষা। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর আকস্মিক মৃত্যু যে রহস্যের জন্ম দিয়েছিল, ৩০ বছর পেরিয়েও তার চূড়ান্ত সমাধান মেলেনি।

সময় গড়িয়েছে, বদলেছে তদন্তের পথ। একের পর এক তদন্ত প্রতিবেদন এসেছে, আদালতে হয়েছে দীর্ঘ আইনি লড়াই। কখনো বলা হয়েছে আত্মহত্যা, আবার পরিবারের দাবির পর সেই ঘটনাই ফিরে এসেছে হত্যা মামলার তদন্তে।

আর সেই মামলায় ২০২৬ সালে গ্রেপ্তার হয়েছেন সালমান শাহর একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও চলচ্চিত্রের খল অভিনেতা আশরাফুল হক ডন। যে মানুষটি একসময় প্রয়াত নায়কের সঙ্গে বন্ধুত্বের স্মৃতি নিয়ে কথা বলেছেন, তিনিই এখন তার মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলার আসামি।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ ফ্ল্যাট থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখন তিনি ছিলেন দেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া।

প্রথমে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি।

এরপর শুরু হয় দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি লড়াই। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে জানায়, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং শুরু হয় নতুন আইনি লড়াই।

২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়। প্রায় ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট সেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে। সেখানেও সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

সালমান শাহর বাবা মারা যাওয়ার পর তার মা নীলা চৌধুরী আইনি লড়াই চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেন। একই সঙ্গে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে তাদের ছেলের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন।

এরপর তদন্তের দায়িত্ব পায় র‌্যাব। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ আদালত র‌্যাবকে তদন্ত থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। পরে মামলার তদন্তভার যায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের কাছে।

চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। ৫৪ জনের সাক্ষ্য ও বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা করে হত্যার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি পারিবারিক কলহ এবং চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতাসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসে।
কিন্তু সেই প্রতিবেদনও মেনে নেয়নি সালমান শাহর পরিবার। এরপরও চলতে থাকে আইনি লড়াই।

২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন।

তবু শেষ হয়নি তিন দশকের এই রহস্যময় অধ্যায়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত পরিবারের করা রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদের অভিযোগ এবং রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি যুক্ত করে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

এরপর রমনা থানায় ৩০২ ও ৩৪ ধারায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল অভিনেতা আশরাফুল হক ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।
এখানেই যেন পুরোনো বন্ধুত্বের গল্পটি নতুন এক মোড় নেয়।

সালমান শাহর সঙ্গে ডনের বন্ধুত্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনে বহুদিনের আলোচিত বিষয়। ২০২০ সালে পিবিআই হত্যার অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানানোর পর ডন স্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন। তখন তিনি সালমান শাহকে নিজের কলিজার বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে মিথ্যা বলেছিলেন।

কিন্তু ছয় বছর পর সেই পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়।
২০২৬ সালে সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, পরে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং তার জামিনও নামঞ্জুর হয়।

মামলার বাদী সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম জানিয়েছেন, রিজভী নামে এক আসামির বক্তব্যে ডনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে এসেছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডন বর্তমানে কেবল হত্যা মামলার একজন আসামি। আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি। মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে।

তিন দশক পর আবারও সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, একজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
সর্বশেষ আদালত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছে।

সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী এখনো লন্ডনে অবস্থান করছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরও তার প্রত্যাশা একটাই, ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসুক এবং তিনি বিচার পান।
তিনি বলেছেন, মামলার তদন্ত শেষ হবে এবং বিচার হবে বলে তিনি আশায় আছেন।

একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, মামলার অন্য আসামিরা দেশে থাকার পরও কেন তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। তার প্রত্যাশা, আসামিদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মৃত্যুর রহস্যের অনেক অজানা দিক সামনে আসতে পারে।

তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। একজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সালমান শাহর মৃত্যুর ৩০ বছর পর আজও তাই একই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে। সেটি কি আত্মহত্যা ছিল, নাকি এর পেছনে ছিল অন্য কোনো ঘটনা?

তিন দশকে একাধিক তদন্তে আত্মহত্যার কথা উঠে এলেও পরিবারের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ঘটনাটি আবার হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তে এসেছে। ফলে সেই বহুল আলোচিত মৃত্যুর প্রকৃত কারণের চূড়ান্ত উত্তর এখনো নির্ভর করছে চলমান তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সুচী
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
ওয়াক্তসময়
সুবহে সাদিকভোর ৪:৪৯
সূর্যোদয়ভোর ৬:০৬
যোহরদুপুর ১১:৪২
আছরবিকাল ২:৫৪
মাগরিবসন্ধ্যা ৫:১৮
এশা রাত ৬:৩৫

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সুচী
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
ওয়াক্তসময়
সুবহে সাদিকভোর ৪:৪৯
সূর্যোদয়ভোর ৬:০৬
যোহরদুপুর ১১:৪২
আছরবিকাল ২:৫৪
মাগরিবসন্ধ্যা ৫:১৮
এশা রাত ৬:৩৫

সর্বশেষ

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত