
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবির বরাতে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, কুয়েতের আহমদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার ও যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়।
তেহরানের দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতেও মার্কিন সেনাদের অবস্থান ও রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
তবে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের হামলার সময় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। এর আগে বাহরাইন ও জর্ডানও ইরানের কয়েকটি বিমান হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছিল।
নতুন করে সামরিক সংঘাতের প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বৃহস্পতিবার ইরানের হামলার খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও আবার বেড়েছে।
চলতি সপ্তাহে ইরান বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসছে বলে দাবি করলেও তেহরান এখনো নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে তুলনামূলক ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হচ্ছে।
এদিকে ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলায় হতাহতের তথ্যও জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মুখপাত্র হোসেইন কারমানপুরের দাবি অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে মার্কিন হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ১৪২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী ও ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুরাও রয়েছে।
এর আগে রোববার হরমুজ প্রণালির কাছে লারাক দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনে সক্ষম রকেট মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেই সক্ষমতা ঠেকাতেই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক অভিযান কতদিন চলবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অভিযান খুব বেশি সময় চলবে না। তাঁর দাবি, ইরান রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছিল এবং মার্কিন হামলায় সেসব ব্যবস্থাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তবে একই সময়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের সঙ্গে ফের যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলেছিলেন।
এদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে বলে বিভিন্ন মার্কিন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। রয়টার্সের বরাত দিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কিছু অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসার কথা জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। হোয়াইট হাউসও দাবি করেছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে।
তবে সংঘাতের বিস্তার নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। আঞ্চলিক কূটনীতিকদের বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকা কয়েকটি উপসাগরীয় দেশও এখন সংঘাত কমানোর আহ্বান জানাচ্ছে।
সব মিলিয়ে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা এবং পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।



























