
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ধুলোবালি, কংক্রিটের ভাঙা টুকরো আর বোমারু বিমানের ভারী গর্জনের মাঝেও যে হৃদয়বিদারক দৃশ্য ফুটে উঠল, তা দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি উদ্ধারকর্মীরাও। গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধসে পড়া একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরাতে গিয়ে উদ্ধার করা হলো এক ফিলিস্তিনি নারীর।
শাহাদাতবরণকারী নিথর দেহ। তবে সবাইকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে তাঁর শেষ মুহূর্তের দৃশ্যটি-মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার পরও পরম শান্তিতে তাঁর হাতদুটি পেঁচিয়ে ছিল তাসবিহ ছড়াকে, আর ঠোঁট দুটি যেন তখনও আল্লাহর জিকিরে মগ্ন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী টিমের সদস্যরা জানান, কয়েক টন ওজনের কংক্রিটের স্ল্যাব সরিয়ে যখন ওই নারীকে বের করা হচ্ছিল, তখন দেখা যায়-চারপাশের নির্মম ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও তাঁর মুখে ছিল এক স্বর্গীয় প্রশান্তি। বোমার আঘাত ও ভবনের নির্মম চাপা পড়া যন্ত্রণা সহ্য করেও জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি পরম করুণাময় আল্লাহর জিকির থামাননি। সেখানে উপস্থিত উদ্ধারকর্মীরা কান্নাভেজা কণ্ঠে জানান, গাজার মানুষের এই ঈমানি দৃঢ়তা এবং আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাসই তাদের এই নারকীয় পৈশাচিকতার মাঝেও টিকিয়ে রেখেছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর অবিরাম হামলায় প্রতিদিন ধ্বংস হচ্ছে একের পর এক বসতবাড়ি, অকাতরে প্রাণ হারাচ্ছেন হাজার হাজার নিরপরাধ ফিলিস্তিনি। তবে এই ফিলিস্তিনি মায়ের অবয়ব ও তাঁর হাতের তাসবিহ যেন আবারও বিশ্ববাসীকে বুঝিয়ে দিল দেহে আঘাত হেনে জীবন কেড়ে নেওয়া সম্ভব হলেও, ফিলিস্তিনের মানুষের বুক থেকে ইমানের জ্যোতি মুছে ফেলা অসম্ভব।
সূত্রঃ আল জাজিরা ও কুদস নিউজ নেটওয়ার্ক



























