
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যত সমাপ্ত ঘোষণা করে নতুন করে সামরিক অভিযান জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ দেশেই ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি এমন এক সংকটের জন্ম দিচ্ছে, যেখান থেকে সহজে বেরিয়ে আসা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কঠিন হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।
সামনেই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এমন সময়ে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। দলটির অনেক প্রার্থী একদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতিকে প্রকাশ্যে অস্বীকার করতে পারছেন না, অন্যদিকে যুদ্ধবিরোধী ভোটারদেরও হারাতে চান না।
রিপাবলিকানপন্থী নির্বাচনী সংগঠন মেইন স্ট্রিট পার্টনারশিপ-এর প্রধান সারা চেম্বারলিন বলেছেন, সাধারণ ভোটারদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম ও জ্বালানির মূল্য। যুদ্ধের কারণে এসবের দাম আরও বেড়ে গেলে নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে বিভিন্ন জনমত জরিপেও ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন নাগরিক দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতের বিপক্ষে মত দিয়েছেন এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করেছেন। তাদের দাবি, নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে এবং এর দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।
এরই মধ্যে ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু বৈদেশিক নীতিতেই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, অর্থনীতি এবং ট্রাম্পের নির্বাচনী কৌশলেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। তাই অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্প এমন এক জটিল সংকটে প্রবেশ করেছেন, যেখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা সহজ হবে না।


























