
আওয়ার টাইমস নিউজ।
স্পোর্টস ডেস্ক: সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দারুণ লড়াই জমে উঠেছে বাংলাদেশ ও Pakistan national cricket team এর মধ্যকার টেস্ট ম্যাচে। অভিজ্ঞ ব্যাটার Mushfiqur Rahim এর অসাধারণ সেঞ্চুরিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে শক্তিশালী ব্যাটিংয়ে ৩৯০ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা পাকিস্তানের সামনে ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছে।
টেস্ট ক্রিকেটের চতুর্থ ইনিংসে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয় পাওয়া সবসময়ই কঠিন। ফলে শেষ দিনের আগে বেশ চাপে রয়েছে পাকিস্তান দল। বাংলাদেশের বোলারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় এই লক্ষ্য আরও কঠিন হয়ে উঠেছে সফরকারীদের জন্য।
এই ম্যাচে সেঞ্চুরি করে নতুন ইতিহাসও গড়েছেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এটি একটি অনন্য অর্জন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্যতম সফল ব্যাটার হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন সাবেক এই অধিনায়ক।
ম্যাচের প্রথম ইনিংসেও দারুণ ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। Litton Das এর চমৎকার সেঞ্চুরিতে স্বাগতিকরা সংগ্রহ করে ২৭৮ রান। দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন আরও কয়েকজন ব্যাটার। তবে লিটনের ধৈর্যশীল ইনিংসই বাংলাদেশকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেয়।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেস ও স্পিন আক্রমণের সামনে বিপাকে পড়ে পাকিস্তান। তরুণ গতিতারকা Nahid Rana এর গতি, Taskin Ahmed এর ধারালো বোলিং এবং স্পিনার Taijul Islam ও Mehidy Hasan Miraz এর নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে মাত্র ২৩২ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।
পাকিস্তানের হয়ে একমাত্র লড়াই করেন Babar Azam। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন তিনি। তবে অন্য ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হওয়ায় বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি সফরকারীরা।
বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলাম তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও মেহেদি হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট নেন। বোলারদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সে প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল টাইগার ব্যাটাররা। ওপেনার Mahmudul Hasan Joy দারুণ ব্যাটিং করে ৬৪ বলে ৫২ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চারের মার। পরে লিটন দাস আবারও দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ৯২ বলে ৬৯ রান করেন। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও দলের রান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
তবে দিনের মূল আকর্ষণ ছিলেন মুশফিকুর রহিম। দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে ধৈর্য, অভিজ্ঞতা ও ক্লাসিক ব্যাটিংয়ের সমন্বয়ে অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন তিনি। ২৩৩ বল মোকাবিলা করে ১২টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ১৩৭ রান করেন মুশফিক। তার ব্যাটে ভর করেই বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে Khurram Shahzad চারটি এবং Sajid Khan তিনটি উইকেট নেন। তবে বাংলাদেশের ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ের সামনে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি তারা।
ম্যাচের বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্টভাবেই এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। শেষ ইনিংসে পাকিস্তানকে জয়ের জন্য করতে হবে ৪৩৭ রান, যা সিলেটের উইকেটে মোটেও সহজ নয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের লক্ষ্য দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করা।































