
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও তীব্র অস্থিরতায় কেঁপে উঠেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগারের ভেতর হত্যা করা হয়েছে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়তেই রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের সামনে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। কয়েকদিন ধরে তাকে প্রকাশ্যে দেখা না যাওয়ায় জনসাধারণের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
গত তিন সপ্তাহ ধরে পরিবারের কারও সঙ্গে ইমরান খানের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তার তিন বোন—নরিন খান, আলিমা খান ও উজমা খান—জেলের সামনে হাজির হলেও প্রবেশের অনুমতি পাননি। ঠিক এই ঘটনাই গুজবকে আরও উসকে দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নানা দাবি—ইমরান খান হয়তো আর বেঁচে নেই।
এদিকে পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অবশেষে মুখ খুলেছে আদিয়ালা কারাগার কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, ইমরান খান কারাগারেই আছেন এবং সম্পূর্ণ সুস্থ। কোনো ধরনের বিপদ বা স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেনি। কারাগারের ভেতরেই তার চিকিৎসা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা রয়েছে বলে জানানো হয়।
তবে পরিবারের অভিযোগ ভিন্ন। তারা মনে করেন, কারাগারে ইমরান খানের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে, তাকে একঘরে করে রাখা হয়েছে এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে তাদের আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। পরিবারের প্রশ্ন—যদি তিনি সত্যিই সুস্থ থাকেন, তাহলে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না কেন?
২০২২ সালের অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই ইমরান খানের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হয়। ২০২৩ সাল থেকে তিনি আদিয়ালায় বন্দি। তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফের দাবি, ইমরান খান রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। এর আগেও বহুবার তার মৃত্যু নিয়ে গুজব ছড়িয়েছিল, যা কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যান করেছিল।
কর্তৃপক্ষের আশ্বাস সত্ত্বেও পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের উদ্বেগ কমছে না। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক, বিক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা প্রমাণ করে—ইমরান খানকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা এখনো তীব্র আকারে বিদ্যমান।





























