
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে সিলেটে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনে টসে হেরে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত জয় পেয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা টাইগাররা আজ টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে বাধ্য হয়। পাকিস্তানের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত এবং বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে শুরুতেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে টিম বাংলাদেশ। তবে শুরুর সেই বিপর্যয় কাটিয়ে উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাসের দুর্দান্ত এবং দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে প্রথম দিনেই ঘুরে দাঁড়ানোর জোর চেষ্টা চালাচ্ছে স্বাগতিক দল।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানি অধিনায়ক শান মাসুদ। তার এই সিদ্ধান্তকে শতভাগ সঠিক প্রমাণ করেন পাকিস্তানি পেসাররা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই শূন্য রানে ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়কে সাজঘরে ফেরত পাঠান অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আব্বাস। শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ব্যক্তিগত ২২ রানে খুররাম শাহজাদের বলে বোল্ড হয়ে যান সাবেক অধিনায়ক মোমিনুল হক। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯ রান এবং টেস্ট অভিষিক্ত তানজিদ হাসান তামিম ২৬ রান করে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমও ২৩ রান করে আউট হলে মাত্র ১১২ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় বাংলাদেশের ইনিংস।
এমন কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাস। পাকিস্তানি বোলারদের একের পর এক বাউন্সার ও সুইং দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করে তিনি তুলে নেন ক্যারিয়ারের আরেকটি দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরি। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করেন লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা। মূলত লিটন দাসের ১২৫ বলে খেলা লড়াকু ৮৩ রানের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২০০ রানের গণ্ডি পার করতে সক্ষম হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২২২ রান। ক্রিজে লিটন দাসের সাথে অপরাজিত আছেন শরিফুল ইসলাম।
পাকিস্তানের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে বেশি সফল হয়েছেন পেসার খুররাম শাহজাদ। তিনি একাই তুলে নিয়েছেন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। এছাড়া মোহাম্মদ আব্বাস ৩টি এবং স্পিনার সাজিদ খান ১টি উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর চাপ বজায় রাখেন। মিরপুরে প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়ী বাংলাদেশ এই ম্যাচে ড্র কিংবা জয় পেলেই সিরিজ নিজেদের করে নেবে। তবে পাকিস্তানকে সিরিজে সমতা ফেরাতে হলে এই টেস্টে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। প্রথম দিনের এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে লিটনের ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশ সম্মানজনক পুঁজিতে পৌঁছাতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।































