উইকেটের একপ্রান্তে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মহামিছিল, অন্যপ্রান্তে ক্যারিবীয় পেসারদের আগুনঝরা বোলিং—এমন কঠিন ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে একাই লড়ে গেলেন মিডল অর্ডার ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে বিপর্যয়ের মুখে পড়া দলকে আগলে রেখে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টেই টেস্ট ফরম্যাটে নিজের অভিষেক সেঞ্চুরির ঝলক দেখালেন তিনি। হৃদয়ের এই ঐতিহাসিক ও দায়িত্বশীল সেঞ্চুরিতেই সম্মানজনক পুঁজির দিকে এগোচ্ছে টাইগাররা।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মিরপুর টেস্টে হেরে সিরিজে ইতিমধ্যেই পিছিয়ে থাকায় এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই স্বাগতিকদের সামনে। তবে টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় ম্যাচের প্রথম থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং তোপে একে একে সাজঘরে ফেরেন লিটন-শান্তরা। অভিষিক্ত টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় কিছু করতে না পারার আক্ষেপ ঘুচিয়ে হৃদয় এবার প্রমাণ করলেন কেন তাকে দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ভরসাস্থল বলা হয়।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২০৫ রান। ক্যারিবীয়দের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ থেকে তখনো ১৫১ রানে পিছিয়ে রয়েছে টাইগাররা।
তবে দলের এই চরম ব্যাটিং ধসের মধ্যেও তাওহীদ হৃদয়ের দৃঢ়তাপূর্ণ সেঞ্চুরি কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বরং দলের জন্য বিরাট এক মানসিক স্বস্তি ও ঘুরে দাঁড়ানোর জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছে।

