
আওয়ার টাইমস নিউজ।
স্পোর্টস ডেস্ক: আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে সিলেটে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনে এক চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ঢাকা টেস্টে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা টাইগাররা আজ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে।
পাকিস্তানি বোলারদের মারাত্মক বোলিং তোপে মাত্র ১১৬ রানেই দলের টপ অর্ডারের স্বীকৃত ৬ ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরে গেলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার উপক্রম হয় বাংলাদেশের। তবে এমন কঠিন ও ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দলের হাল ধরেন মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস। তার ক্যারিয়ারের এক অনবদ্য ও অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরির ওপর ভর করে প্রথম দিনেই সম্মানজনক স্কোর গড়ার পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই পাকিস্তানি পেসারদের নিয়ন্ত্রিত সুইং আর বাউন্সের সামনে চরম ব্যাকফুটে চলে যায় স্বাগতিকরা। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই খাতা খোলার আগে আউট হয়ে ফেরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। দলীয় ৪৪ রানে নিজের অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৩৪ বলে ২৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ঢাকা টেস্টে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক সৌরভ আজ ২২ রানের বেশি করতে পারেননি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯ রান এবং অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ২৩ রান করে থিতু হয়েও নিজেদের ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। এরপর ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ মাত্র ৪ রান করে আউট হলে মাত্র ১১৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশ দল।
দলের এমন খাদের কিনারে অবস্থানকালে একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে টিকে থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন লিটন কুমার দাস। লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের সঙ্গী করে তিনি দলকে বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন। সপ্তম উইকেটে স্পিনার তাইজুল ইসলামকে (১৬) সঙ্গে নিয়ে ৬০ রানের এবং অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে (৭) সঙ্গে নিয়ে ৩৮ রানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি পার্টনারশিপ গড়েন লিটন। এরপর দলীয় ২১৪ রানে অষ্টম উইকেটের পতনের পর পেসার শরিফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে নবম উইকেটে ইতোমধ্যে ৫৭ রানের এক লড়াকু জুটি গড়েন তিনি। এই জুটির ওপর ভর করেই বাংলাদেশ দল আড়াইশ রানের গণ্ডি পার করে।
এই লড়াকু জুটির মাঝেই পাকিস্তানি বোলারদের শাসন করে লিটন দাস তুলে নেন তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি। প্রতিকূল কন্ডিশনে তার এই সেঞ্চুরিটি কেবল দলকে বিপর্যয় থেকেই রক্ষা করেনি, বরং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেট হারিয়ে লড়াকু পুঁজি সংগ্রহের পথে রয়েছে। ঢাকা টেস্টের সাফল্যের পর সিলেট টেস্টেও লিটনের এই অসাধারণ কীর্তি বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে নতুন করে জয়ের আশা জাগিয়ে তুলেছে।































